1 Answers

উদ্দীপকটি পাঠ করে আমরা দুটি চরিত্রের মাঝে বৈপরীত্য লক্ষ করি। একদিকে রাবেয়া আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীল, অনাড়ম্বর জীবনযাপনকারী একজন সত্যনিষ্ঠ নারী। অন্যদিকে সাহিদা বিলাসী জীবনে অভ্যন্ত। আমরা সাহিদার মাঝে বিলাসিতার পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতার অভাব লক্ষ করি। এখানে রাবেয়ার জীবনপ্রণালি ও মনোভাব মুসলিম মনীষীদের জীবনাদর্শের সাথে সংগতিপূর্ণ হলেও সাহিদার মনোভাব ঠিক তার উল্টো।

সাহিদা মনে করে পারিবারিক কাজ নিজ হাতে মানায় না। এজন্য তিনি দুজন 'কাজের লোক' রেখেছেন। সাংসারিক বা পারিবারিক কাজকর্ম তারাই সম্পন্ন করে। কাজেই সাহিদার মনোভাব কোনো অবস্থাতেই মুসলিম মনীষীদের জীবনাদর্শের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। কারণ মুসলিম মনীষিগণ বিলাসী জীবনযাপন করতেন না। তারা তাদের কাজকর্ম নিজের হাতেই সম্পন্ন করতেন। নিজের কাজের জন্য অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হতেন না। আমরা অনেক মুসলিম মনীষীদের জীবনী পাঠে জেনেছি, তাদের মাঝে অহংকারের লেশমাত্র ছিল না। যেমন- হযরত ফাতিমা (রা.) নবি (স.)-এর কন্যা এবং ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা.)-এর স্ত্রী ছিলেন। একজন খলিফা বা রাষ্ট্রপ্রধানের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি সাংসারিক সব কাজকর্ম নিজ হাতে করতেন। এমনকি নিজ হাতে যাঁতা ঘুরিয়ে গম পিষতেন। এতে তাঁর হাতে দাগ পড়ে গিয়েছিল। খলিফার স্ত্রী হওয়ার কারণে কোনো অহংবোধ তাঁর মাঝে ছিল না। অনুরূপ বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে মুসলিম মনীষীদের জীবনে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রের একজন সাধারণ কর্মচারীর স্ত্রী হয়ে সাহিদার মনে যে অহংবোধ জন্মেছে, তা সত্যিই দুঃখজনক। সাহিদার উচিত মুসলিম মনীষীদের জীবনী পাঠ করা এবং তদ্রূপ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া। সর্বোপরি সাহিদার এবং প্রতিটি মুসলিম নারীর উচিত ইসলামের বাস্তব অনুসারী হওয়া। এতে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ রয়েছে।

5 views

Related Questions