1 Answers
উদ্দীপকে সাহিদার সহজ-সরল ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো :
যেকোনো বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব নির্ভর করে মানবজীবনে বিষয়টির প্রয়োজনীয়তার উপর। আর ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়া হচ্ছে এমনই একটি বিষয়, মানবজীবনে যার অপরিসীম প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। ব্যাখ্যার উৎসস্থল হচ্ছে কৌতূহল। বস্তুত এই কৌতূহল নিবৃত্তির জন্যই মানুষ সর্বদা ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে। ব্যাখ্যা শুধু দৈনন্দিন জীবনেই নয়, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সাধারণত জাগতিক জটিল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ঘটনাবলি আমাদের মনে নানা ধরনের জিজ্ঞাসার সৃষ্টি করে এবং এই জিজ্ঞাসার নিবৃত্তির জন্যই আমরা এ বিষয়গুলোকে জানতে চাই, বুঝতে চাই। আর এসব জটিল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ বিষয়াবলিকে জানা বা বোঝার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ব্যাখ্যাকরণ প্রক্রিয়া। বস্তুত যেকোনো ঘটনাকে জটিল বা দুর্বোধ্য বলে মনে হয় তখনই, যখন ওই সব ঘটনার কারণ আমাদের কাছে অজানা থাকে। আর কোনো বিষয়ের কারণ আবিষ্কার না করা পর্যন্ত সেই বিষয়ের অন্তর্মূলেও প্রবেশ করা যায় না। এককথায়, কোনো বিষয় বা ঘটনার কারণ জানা না থাকলে ওই বিষয় বা ঘটনাটি আমাদের কাছে বিশৃঙ্খল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়। এ ধরনের ঘটনারাশিকে বিচার- বিশ্লেষণ করে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং প্রকৃত কারণ আবিষ্কারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয় বা ঘটনাকে আমাদের কাছে বোধগম্য করাই হচ্ছে ব্যাখ্যার প্রধান কাজ।
প্রকৃতির প্রতিটি ঘটনাই কার্যকারণ শৃঙ্খলে আবদ্ধ এবং ঘটনাগুলো পারস্পরিক পৃথক হলেও বিচ্ছিন্ন নয়। কাজেই একটি ঘটনা কীভাবে অন্য একটি ঘটনার সাথে কার্যকারণ শৃঙ্খলে আবদ্ধ, তা জানার জন্য অনিবার্যভাবেই আমাদের ব্যাখ্যার সাহায্য নিতে হয়। কাজেই দেখা যাচ্ছে, শুধু দৈনন্দিন জীবনেই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর গুরুত্বের কারণেই বর্তমানের জ্ঞান- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার ধারায় ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।