1 Answers
জনাব শিহাব তার বক্তব্যে যে সংবিধানের প্রতি আলোকপাত করেছেন, তা হলো পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান মদিনা সনদ। এ সনদের ধারাগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মদিনা ছিল বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের লোকজনের আবাস। হযরত মুহাম্মদ (স.) এসব জাতিকে একত্রিত করে সেখানে একটি ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি সকল নেতার সাথে বৈঠক করে একটি লিখিত সনদ প্রণয়ন করেন, যা ইসলামের ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে খ্যাত। এ সনদে মোট ৪৭টি ধারা ছিল। তার মধ্যে প্রধান ধারাগুলো হলো-
১. সনদে স্বাক্ষরকারী মুসলমান, ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিক সম্প্রদায়সমূহ সমানভাবে নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।
২. মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) হবেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান এবং সর্বোচ্চ বিচারালয়ের কর্তা।
৩. মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায় স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম, পালন করবে।
৪. কেউ কুরাইশ বা অন্য কোনো বহিঃশত্রুর সাথে মদিনাবাসীর বিরুদ্ধে কোনোরূপ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারবে না।
৫. স্বাক্ষরকারী কোনো সম্প্রদায় বহিঃশত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হলে সকল সম্প্রদায়ের সমবেত প্রচেষ্টায় তা প্রতিহত করা হবে।
উদ্দীপকে জনাব শিহাব রাসুল (স.)-এর কর্ম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, তিনি জাতিকে এক করে একটি ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা নেন। এ কাজ করতে গিয়ে তিনি সকল নেতার সঙ্গে বৈঠক একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন। যাতে ৪৭টি ধারা ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত শিহাব সাহেবের বক্তব্যে যে. সংবিধানের কথা ফুটে উঠেছে তা হলো মদিনা সনদ। মদিনা সনদের ধারাগুলো অবশ্যই একটি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।