1 Answers
"মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।" কবিতার এই বিষয়টি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত।- মন্তব্যটি যথার্থ।
জন্মভূমির প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। বাংলাদেশের প্রকৃতি, পরিবেশ, ঐতিহ্য ও ঐশ্বর্য মানুষের অহংকার। এদেশের মানুষ এই অহংকার নিয়ে বিশ্বের অন্যসব জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে দাঁড়াতে পারে। এখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশে নিজেকে সম্পৃক্ত করে সবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে পৃথিবীর সর্বত্র থাকার স্বপ্ন পূরণ করে।
উদ্দীপকের কবির কাছে নিজ দেশের মাটিই তাঁর প্রাণ, তিনি সেখানে নবজীবনের সন্ধান করেন। সেই জীবন তিনি জন্মভূমিতে পান। এখানে শান্তির বাণী নিয়ে আসে শান্তি কপোত। তিনি তাঁর দেশের ভালোবাসার মধ্যে নিজ জীবনের অস্তিত্বের অবস্থান লক্ষ করে সম্মানবোধ করেন। উদ্দীপকের এই ভাবনাটির সঙ্গে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির শরীরে লেগে থাকা স্নিগ্ধ মাটির সুবাসের ভাবনাটি সাদৃশ্যপূর্ণ। জন্মভূমির প্রতি অনুরাগ ও অনুভূতি উদ্দীপকের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। উদ্দীপকের কবির যেমন দেশের মাটিতে প্রাণ বিরাজমান, কবিতায়ও তেমনই মাটিতে রয়েছে কবির শরীরের গন্ধ আর কবির শরীরে লেগে আছে স্নিগ্ধ মাটির সুবাস। দেশের নদীর কিনার তাঁর অস্তিত্বে গাঁথা।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা, ধানখেত এ সবকিছুই কবিকে তাঁর দেশের মাটির প্রতি গভীর মমতাকে আরও গভীরতর করেছে। গ্রামের মাঠ-ঘাট-পথ-প্রান্তরের মতো খেতের সরু পথ, তার পাশে ধানের সমারোহ এবং একটু এগিয়ে গেলে বিশাল নদীর কিনার কবির মনের ভেতর ও অস্থিমজ্জায় গ্রথিত হয়ে আছে। এই বিষয়গুলোরই প্রতিফলন ঘটেছে আলোচ্য লাইন ও উদ্দীপকে।