1 Answers

মিছির আলীর কর্মে ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা.)-এর কর্মময় জীবনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

হযরত আলি (রা.) ৬০০ খ্রি. মক্কার কুরাইশ বংশের বনু হাশিম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবু তালিব। তাঁর ডাক নাম আবু তোরাব ও আবুল হাসান। তিনি মহানবি (স.)-এর আপন চাচাত ভাই। মাত্র দশ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। বালকদের মধ্যে তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবি। হযরত উসমান (রা.) শহিদ হলে তিনি ইসলামি খেলাফতের খলিফা নির্বাচিত হন।

হযরত আলি (রা.) ছিলেন শৌর্য-বীর্য ও অসাধারণ শক্তির অধিকারী। তাঁর নাম শুনলে কাফিরদের মনে ত্রাস সৃষ্টি হতো। বদর যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বের জন্য রাসুল (স.) তাঁকে 'যুলফিকার' তরবারি উপহার দেন। খায়বারের যুদ্ধে কামুস দুর্গ জয় করলে হযরত মুহাম্মদ (স.) তাঁকে 'আসাদুল্লাহ' (আল্লাহর সিংহ) উপাধি প্রদান করেন। হুদায়বিয়া সন্ধিপত্র তিনি নিজ হাতে লিখেছিলেন। মক্কা বিজয়ের সময় মুসলিম বাহিনীর পতাকা তাঁর হাতে ছিল।

হযরত আলি (রা.) অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি কবি, সাহিত্যিক, বৈয়াকরণ ও ন্যায়শাস্ত্রিবিদ ছিলেন। তাঁর লিখিত 'দিওয়ানে আলি' আজও আরব সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। তাঁর বক্তৃতা ও অভিভাষণ আরবি ভাষার গৌরবের বস্তু। তাঁরই তত্ত্বাবধানে আবুল আসওয়াদ সর্বপ্রথম আরবি ব্যাকরণ সংকলন করেন। ধর্মীয় জটিল ব্যাপারে আলির সিদ্ধান্তকেই হযরত উমর চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করতেন। হযরত মুহাম্মদ (স.) একবার বলেছিলেন, "আমি জ্ঞানের নগরী ও আলি তার দ্বারস্বরূপ।” এক কথায়, খলিফা হিসেবে ব্যর্থ হলেও মানুষ হিসেবে তিনি পূর্ণ সফলতা অর্জন করেছিলেন। ঐতিহাসিক হিটি বলেন, "যুদ্ধে সাহসী, পরামর্শদানে বিজ্ঞ, বক্তৃতায় স্বচ্ছ, সাবলীল, বন্ধুদের প্রতি অকপট এবং শত্রুর প্রতি দয়াশীল আলি ছিলেন মাহাত্ম্য ও শৌর্যবীর্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনস্বরূপ।"

তিনি অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। তাঁর স্ত্রী ছিলেন রাসুল (স.)- এর কন্যা ফাতিমা (রা.)। ইমাম হাসান ও হোসাইন (রা.) তাঁর স্বনামধন্য পুত্র।

5 views

Related Questions