1 Answers
জনাব আমির আলীর জীবন ও কর্মে ইমাম আযম আবু হানিফা (র.)-এর কর্মের প্রতিফলন ঘটেছে। কারণ তিনি কুরআন, হাদিস ও ফিকাহশাস্ত্রে গভীর পান্ডিত্য অর্জন করেছিলেন এবং ফিকাহকে একটি আলাদা শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর ছাত্র ইয়াযিদ ইবনে হারুন বলেন, "তাঁর মতো জ্ঞানী, খোদাভীরু ও ইলমে ফিকহে পারদর্শী কাউকে আমি দেখিনি।”
ইমাম আবু হানিফা (র.) ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ আলিম, আবিদ ও বুদ্ধিমান। তার সম্পর্কে ইমাম বুখারির প্রিয় শিক্ষক হযরত মক্কি বিন ইব্রাহিম বলেন, “ইমাম আবু হানিফা তাঁর কথা ও কাজে সত্যনিষ্ঠ ছিলেন।” তিনি এত বেশি ইবাদত করতেন যা চিন্তা করাও কঠিন। তিনি এতই আল্লাহভীরু ছিলেন যে, কুফায় ছাগল চুরির কথা শোনার পর তিনি সাত বছর যাবত বাজার থেকে ছাগলের গোশত ক্রয় করেননি; এ ভয়ে যে এটি চুরিকৃত ঐ ছাগলের গোশত হতে পারে। তিনি বিনা পয়সায় জ্ঞান বিতরণ করতেন। কাপড় ব্যবসায় করে জীবনযাপন করতেন।
তৎকালীন বাগদাদের খলিফা আল-মনসুর ইমাম আবু হানিফা (র.)-কে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করেননি। ফলে তাঁকে জেলখানায় আবদ্ধ করে রাখা হয়। বলা হয়, এ মহান মনীষী ১৫০ হিজরি ৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে খলিফার নির্দেশে প্রয়োগকৃত বিষক্রিয়ার প্রভাবে ইন্তেকাল করেন। সরকার কর্তৃক দেওয়া সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাখ্যান করে ইমাম আবু হানিফা নৈতিক ও দীনি ইলমের মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন।