1 Answers

জামিল সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.)-এর কর্মকান্ডের সাথে মিল রয়েছে।

হযরত উমর ফারুক (রা.) রাতের বেলা ছন্মবেশে জনগণের খোঁজখবর নিতেন। একরাতে তিনি এক বেদুঈনের তাঁবু অতিক্রম করেছিলেন। তখন সেখান থেকে প্রসব বেদনায় কাতর এক মহিলার আওয়াজ শুনতে পান। তৎক্ষণাৎ তিনি বাড়ি ফিরে গিয়ে স্বীয় স্ত্রী উম্মে কুলসুমকে তার সেবা করার জন্য সেখান নিয়ে যান। অনেকটা অনুরূপ চরিত্র উদ্দীপকের জামিল সাহেবের কর্মকান্ডে প্রকাশিত হয়েছে। হযরত উমর (রা.) ছিলেন সচ্চরিত্রের সর্বোত্তম আদর্শ। এ অসাধারণ মানুষটির মধ্যে দৃঢ় প্রত্যয়, অনাড়ম্বর জীবন নির্বাহ, ন্যায়পরায়ণতা, প্রজাবাৎসল্য, পান্ডিত্য, তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধি প্রভৃতি মানবিক গুণের সমাবেশ ঘটেছিল। সরলতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতা তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এক বিশাল সাম্রাজ্যের শাসক হয়েও হযরত উমর (রা.) সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন। তাঁর সাদাসিধে জীবনযাপন সম্বন্দ্বে অনেক কাহিনি প্রচলিত আছে। তাঁর না ছিল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য কোনো দেহরক্ষী, না ছিল আড়ম্বরপূর্ণ শাহি বালাখানা। হযরত উমর (রা.) ছিলেন কোমলতা ও কঠোরতার অদ্ভুত সংমিশ্রণ। 

দরিদ্রের প্রতি তিনি ছিলেন দয়ালু ও সহানুভূতিশীল এবং তাদের মঙ্গলের চিন্তায় তিনি বহু বিনিদ্র রজনী যাপন করেছেন। জনগণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে অভাবগ্রস্তদের অর্থ ও খাদ্য সাহায্য করার জন্য তিনি পথে পথে ঘুরে বেড়াতেন। তিনি দুর্ভিক্ষের সময় নিজের কাঁধে করে খাদ্যের বোঝা বইতেন। বিচারকার্যে তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। নিজের অপরাধী পুত্রকেও তিনি ক্ষমা করেননি। মদপানের অপরাধে স্বীয়পুত্র আবু শাহমাকে তিনি বেত্রাঘাতে হত্যা করেন। স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব তাঁকে স্পর্শ করেনি। উঁচু-নীচু, ধনী-দরিদ্র সবাই ছিল তাঁর চোখে সমান। অপরাধী প্রাদেশিক শাসনকর্তাকে পদচ্যুত করতেও তিনি দ্বিধাবোধ করেননি।

4 views

Related Questions