1 Answers

উদ্দীপকে এ আদর্শ পুরুষ বলতে হযরত আলি (রা.)-কে বোঝানো হয়েছে। হযরত আলি (রা.) ছিলেন সরলতা ও উদারতার বাস্তব প্রতিচ্ছবি। ইসলামি উম্মাহর এক চরম সংকটময় মুহূর্তে তিনি খিলাফতের আসনে সমাসীন হন। নিচে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হলো-

১. হযরত আলি (রা.) অত্যন্ত খোদাভীরু ছিলেন। চলমান দুনিয়ার প্রতি তাঁর অনাসক্তি ছিল বর্ণনাতীত। তাঁর জীবনে দারিদ্র্য ও প্রাচুর্য উভয় অবস্থা অতিক্রান্ত হলেও বৈষয়িক প্রাচুর্য তাঁকে আকৃষ্ট করতে পারেনি।

২. হযরত আলি (রা.) বাল্যকাল থেকে আরম্ভ করে আজীবন রাসুল (স.)-এর মতাদর্শে জীবন পরিচালনা করেন। 

৩. হযরত আলি (রা.) গণমানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। সমাজের অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য তিনি বায়তুল মালের দ্বার উন্মুক্ত করে দিতেন। 

৪. হযরত আলি (রা.) বিশ্ব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম সমরনায়ক, রণকুশলী ও সাহসী যোদ্ধা ছিলেন। তাঁর তীক্ষ্ণ রণকৌশল ও বলিষ্ঠতায় মুগ্ধ হয়ে রাসুল (স.) তাঁকে 'আসাদুল্লাহিল গালিব' তথা শের-ই-খোদা উপাধিতে ভূষিত করেন। 

৫. ন্যায়বিচারে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। হযরত উমর বলেন, "আলি না থাকলে উমর নিশ্চয়ই ধ্বংসে পতিত হতো।" 

৬. হযরত আলি (রা.) দরিদ্র জীবন ভালোবেসে দরিদ্রদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি মনে করতেন, প্রত্যেক মানুষ একই আদমের সন্তান। 

৭. হযরত আলি (রা.) ছিলেন একজন শান্তিপ্রিয় শাসক। তাই তিনি অশান্তি মনেপ্রাণে ঘৃণা করতেন। অকারণে রক্তপাত তিনি আদৌ পছন্দ করতেন না। 

৮. হযরত আলি (রা.) জীবনে কখনো আমানতের খিয়ানত করেন নি। তাঁর আমানতদারির উদাহরণ যুগে যুগে ইতিহাসে স্থান করে নেবে।

পরিশেষে বলা যায় যে, হযরত আলি (রা.) ছিলেন সরলতা ও সাধুতার মূর্ত প্রতীক। ইসলামের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

4 views

Related Questions