1 Answers

না, উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সমগ্র ভাব প্রকাশ করে না। 

প্রকৃতি আপন সৌন্দর্যে মানুষকে তার কাছে টানে। জন্মভূমির রূপে মুগ্ধ মানুষ নানাভাবে তার মুগ্ধতা প্রকাশ করে। এই প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতির জগতে তারা এক। কারণ প্রকৃতি তার দান তাদেরকে সমানভাবে দিয়ে থাকে। সেই দানে প্রকৃতির কৃপণতা নেই।

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি আত্মপরিচয় দিয়েছেন। কবি বলেছেন- এই মাটি ও বাংলারই তিনি একজন মানুষ। এখানেই তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা। তিনি এই আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা, কার্তিকের ধানের উপর পড়ে থাকা শিশির দেখেছেন, এদেশের রূপ-বৈচিত্র্য উপভোগ করেছেন। এই জনপদের মানুষ, পরিবেশ সবই চেনেন। তারাও তাকে চেনে। তিনি যদি ভিন্ন দেশি হতেন তাহলে তিনি এগুলো চিনতেন না। এদেশের অভাব-অনটন তিনি খুব ভালো করে জানেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে বর্ণিত কবিও তার স্বদেশের রূপ-সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। জাম, বট, কাঁঠাল, হিজল ও অশ্বত্থ গাছের কথা বলেছেন। অন্ধকারের ডুমুরের গাছে চাতক পাখির মতো বসে আছে ভোরের দোয়েল। এই প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিক দিয়ে কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের মিল রয়েছে।

উদ্দীপকে বর্ণিত স্বদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রকাশ পেলেও কবি কবিতায় নিজেকে এ মাটিরই একজন প্রমাণের যে চেষ্টা করেছেন তা উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে অভাবী মানুষের জীবনচিত্রও অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সমগ্র ভাব প্রকাশ করে না।

5 views

Related Questions