1 Answers
উদ্দীপকের সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার চেতনাগত বৈসাদৃশ্যই বেশি। মন্তব্যটি যথার্থ।
জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অচ্ছেদ্য। নিজের দেশকে আপন সত্তায় অনুভব করে মানুষ আনন্দ লাভ করে। জন্মভূমির পরিচয় ছাড়া মানুষ শেকড়শূন্য, অস্তিত্বহীন। জন্মভূমি বা স্বদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি গভীর অনুরাগই ধীরে ধীরে স্বদেশপ্রেমের রূপ লাভ করে।
উদ্দীপকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত প্রকৃতির কয়েকটি অনুষঙ্গের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তাতে যে বিষয় প্রকাশ পেয়েছে তা 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার পুরো বিষয়কে নির্দেশ করেনি। কবিতায় কবি স্বদেশপ্রেমের যে চেতনা এবং মাতৃভূমির সঙ্গে তাঁর যে সম্পর্কের কথা ব্যক্ত করেছেন তার সঙ্গে উদ্দীপকের চেতনার পার্থক্য রয়েছে। উদ্দীপকে কেবল স্বদেশের প্রকৃতির প্রতি অনুরাগ ব্যক্ত হয়েছে। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার মতো স্বদেশপ্রেমের চেতনার তীব্র কোনো প্রকাশ সেখানে নেই।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি স্বদেশপ্রকৃতির উপাদানকে নিজের হৃদয়ের মাঝে স্থান দিয়েছেন। স্বদেশের আকাশের তারা, মাঠের ঘাসফুল, বাঁশবাগান, রাতের অন্ধকারে জোনাকির আলো, জারুল, জামরুল গাছ, পূর্ব ধারের পুকুর, পুকুরের উপর ঝুলে থাকা ডুমুর গাছ, মাছরাঙা প্রভৃতি তাঁর চিরচেনা। এসব উপাদানের অল্পই উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে বাবুই পাখির বাসা এবং মেঘমালার প্রসঙ্গটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার খররৌদ্র জলজ বাতাসের বিপরীত। কবিতায় টলমল শিশিরের এবং কার্তিকের ধানের মঞ্জরির প্রসঙ্গও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।