1 Answers

না, উদ্দীপকে মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি ভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না।

মানুষ তার জন্মভূমির আলো-বাতাসে, প্রকৃতির স্নেহস্পর্শে বেড়ে ওঠে। জন্মভূমি ও জন্মভূমির মাটির কাছে মানুষের ঋণের শেষ নেই। তা সত্ত্বেও অনেক সময় স্বদেশের প্রকৃতিকে ছেড়ে মানুষ নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। তাতে তার অর্থ-স্বার্থ রক্ষা হলেও স্বদেশপ্রেমের মনোভাব জাগ্রত হয় না।

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। কবি মনে করেন এদেশের শ্যামল প্রকৃতি তাঁর জীবনের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। আর তাই তিনি নিজের কথা বলতে গিয়ে তাঁর চিরচেনা গ্রাম, জনপদ, আসমান, জমিন, গাছপালা, পুকুর, জোনাকি, পাখি প্রভৃতির কথা বলেছেন। তিনি কদম আলী ও জমিলার মায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় থাকার কথা বলেছেন। কবির মতে তারা তাঁর চিরচেনা স্বজন। উদ্দীপকের মামুনের মধ্যে এই আত্মিক অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেনি। কল্পনায় জন্মভূমির প্রতি টান অনুভব করলেও বাস্তবে প্রকৃতি-পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো টান লক্ষ করা যায় না।

উদ্দীপকের মামুন জন্মস্থানের প্রতি যতটা না অনুরাগী তার চেয়ে বহুগুণে সে শহরমুখী। সে শহরের পরিবেশেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। কল্পনায় জন্মভূমির প্রতি তার যে টান তা প্রকৃত অনুভূতি নয়। কারণ শহুরে চাকচিক্যকে সে জীবনের অনুষজ্ঞা করে নিয়েছে। অন্যদিকে আলোচ্য কবিতার কবি গ্রামীণ জনপদের সঙ্গেই জীবনের বন্ধন অনুভব করেছেন। জন্মভূমিকে আপন সভায় অনুভব করেছেন। এখানে কবি যেভাবে প্রকৃতির সাথে একাত্ম মামুন তা নয়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে মামুন জন্মস্থানের প্রতি টান অনুভব করলেও আলোচ্য কবিতার কবিভাবনার সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না।

4 views

Related Questions