উদ্দীপকটির সঙ্গে 'পল্লিজননী' কবিতার কোন দিকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)
1 Answers
'পল্লিজননী' কবিতার দারিদ্র্যপীড়িত গ্রামীণ পরিবেশে রুগ্ম সন্তানের শিয়রে জেগে থাকা জননীর বিষয়টি বাস্তব। এটির সঙ্গে উদ্দীপকের দৈবঘটিত বিষয়টি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাঙালি জননীর তুলনা নেই। সন্তানের কল্যাণ কামনাই বাঙালি জননীর যে সহজাত বৈশিষ্ট্য তা পৃথিবীর কোথাও নেই। সন্তানের প্রতি গভীর মমতায় বাঙালি জননী দেবীতে পরিণত হয়।
'পল্লিজননী' কবিতাটিতে রুগ্ধ পুত্রের শিয়রে বসে রাত জাগা এক মায়ের মনঃকষ্ট ও পুত্রের সুস্থতা কামনার চিত্র ফুটে উঠেছে। দরিদ্র মা সন্তানের মঙ্গলের জন্য মানত ও প্রার্থনা করে। সন্তানের মঙ্গল চিন্তায় সে অস্থির। মাটির প্রদীপের তেল ফুরিয়ে আসা, কানা কুয়োর ডাক, বাদুড়ের পাখা ঝাপটানো ইত্যাদিকে তার সন্তানের মৃত্যুর শঙ্কা হিসেবে সে ভয় পায়। তার প্রাণ দুলে ওঠে। উদ্দীপকটিতেও অপত্যস্নেহের প্রকাশ ঘটেছে। স্বয়ং দেবী বর চাইতে বললেও উদ্দীপকের কবিতাংশটুকুতে দেখা যায়, ব্যক্তিটি নিজের জন্য কিছু চায় না, তার চাওয়া হলো সন্তানের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ। উদ্দীপক ও 'পল্লিজননী' কবিতায় পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে যৌক্তিকতা ও অলৌকিকতাকেন্দ্রিক। দৈব এবং সহজাত- এটিই উদ্দীপক ও কবিতাটির মাঝে বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি করেছে।