1 Answers

উদ্দীপকের লালন ফকিরের আদর্শের সঙ্গে মোল্লা-পুরুতের আদর্শগত পার্থক্য বিদ্যমান। মানবকল্যাণ সব ধর্মের মূল কথা। 

মানবসেবার মধ্য দিয়েই মানুষ সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ করে। কিন্তু কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে। সবার উর্ধ্বে যে মানুষের 'মানুষ' পরিচয় তা তারা ভুলে যায়।

উদ্দীপকের লালন ফকির অসাম্প্রদায়িক-মানবতাবাদী চেতনার অধিকারী। তিনি জাতি-ভেদ বা বৈষম্যে বিশ্বাস করতেন না। তাঁর কাছে সব মানুষ সমান। তিনি তাঁর গানের মধ্য দিয়ে সাম্য-ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার কথা বলেছেন। প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন একটি বৈষম্যহীন আদর্শ মানব সমাজ। অন্যদিকে 'মানুষ' কবিতার মোল্লা-পুরুত উদ্দীপকের লালন ফকিরের ঠিক বিপরীত আদর্শের প্রকাশ ঘটায়। তারা ধর্মের নামে অধর্ম করে। স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের চেয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ লাভে সদা ব্যস্ত। নিরন্ন মানুষের অন্ন তারা ভোগদখল করে। ক্ষুধার তাড়নায় মুসাফির তাদের কাছে গেলে অপমানিত হয়ে ফিরে আসে। তারা মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মানও করে না। নামাজ পড়ে না বলে মোল্লা ভুখারিকে খাবার দেয় না। পুরোহিত জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থায় ভুখারিকে দেখে মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেয়। এ ধরনের কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে তাদের সাম্প্রদায়িক ও অমানবিকতার পরিচয় প্রকাশ পায়, যা লালন ফকিরের আদর্শের ঠিক বিপরীত। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের লালন ফকিরের সঙ্গে মোল্লা-পুরুতের আদর্শগত পার্থক্য বিদ্যমান।

5 views

Related Questions