1 Answers

উদ্দীপকের মূলভাবের সঙ্গে 'মানুষ' কবিতার মূলভাবের মিল রয়েছে ধর্মে নয়, শান্তির জন্য মানবিক মূল্যবোধের জাগরণ একান্ত জরুরি এই চেতনার দিক থেকে।

আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের আবাসভূমি। একই পৃথিবীর স্নেহচ্ছায়ায় এবং একই আলো-বাতাসে মানুষ প্রতিপালিত হয়। মানুষের মধ্যে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ক্ষুধা-তৃষ্ণার অনুভূতিও অভিন্ন। অথচ কিছু হীন মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের কারণে আজ মানবতা বিপন্ন।

উদ্দীপকে মানুষের মধ্যে মানবতাবোধের জাগরণ ও মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। কোনো ধর্মেই মানুষের অশান্তি ও অকল্যাণের কোনো দিকনির্দেশনা নেই। তাই বুদ্ধ, যিশু, হযরত মুহম্মদ (স)-এর ধর্ম মানুষকে বিচ্ছিন্ন বা বিবাদ-কলহ থেকে মুক্তির জন্য এবং একান্তভাবে মানবকল্যাণের জন্য নিয়োজিত। মানবতার এ অমোঘ বাণীর প্রতিফলন ঘটেছে 'মানুষ' কবিতায়। কবি এখানে ক্ষুধার্ত মানুষকে দেবতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। অসহায়ের প্রতি সদয় সহানুভূতি ও মানবিক আচরণ করার কথা বলেছেন। যারা তা করে না, তাদের প্রতি তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন মানুষের চেয়ে বড় অন্য কোনোকিছুই নেই।

'মানুষ' কবিতায় কবি ধর্মের ধ্বজাধারী বা উপাসনালয় রক্ষকদের অমানবিক দিক তুলে ধরে দরিদ্র মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এই বিষয়টি উদ্দীপকের কবিতাংশেও অভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের কল্যাণে ধর্মের আবির্ভাব এবং ধর্মচিন্তকদের মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার দিক প্রতিফলিত হয়েছে।

4 views

Related Questions