1 Answers
উদ্দীপকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। মন্তব্যটি যথার্থ।
জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা মানুষকে মহত্ত্ব ও গৌরব দান করে। স্বদেশ ও দেশের প্রকৃতির কথা মানুষ সহজে ভুলতে পারে না। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও প্রকৃতির সঙ্গে সাময়িক বিচ্ছেদ ঘটলেও সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
উদ্দীপকে জন্মভূমির প্রতি শুভ বাবুর গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। প্রবাসের বিলাসী জীবন তাকে সুখী করতে পারেনি। তার হৃদয়জুড়ে বিরাজ করে শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত গ্রামখানি। জন্মভূমির প্রতি এই অনুরাগ ও ভালোবাসা শুভ বাবুকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কপোতাক্ষ নদ তথা প্রিয় জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবি শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদ এবং এই নদের তীরবর্তী ছায়াসুনিবিড় গ্রামকে স্মরণ করেছেন। কপোতাক্ষের জলে যে তৃপ্তি, তা পৃথিবীর অন্য কোথাও তিনি পাননি। তাই প্রবাসজীবনে জন্মভূমির শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি তাঁর মনে কাতরতা জাগিয়েছে। তিনি যেন কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। কবির মিনতি মাতৃভূমি ও মাতৃভূমির মানুষ যেন তাঁকে স্মরণ করে। উদ্দীপকের শুভ বাবুও বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রান্তরের কথা, আঁকাবাঁকা পথের কথা, নদীতীরের সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের কথা ভুলতে পারেন না। এভাবে দেশপ্রেমই কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও শুভ বাবুকে এক সুতোয় গেঁথেছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।