1 Answers
উদ্দীপকের আজম সাহেব 'মানুষ' কবিতায় বর্ণিত মোল্লা সাহেব চরিত্রের বিপরীত সত্তা।
প্রকৃতির প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে মানুষ সংগ্রাম করে টিকে থাকে। পরস্পরের প্রয়োজনে তারা একে অন্যের ওপর নির্ভর করে। তারা সংসারধর্ম পালন করে, সুখে-দুঃখে একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসে। বাইরের চেহারা, ধর্ম ও জাতিভেদ থাকলেও প্রকৃত অর্থে পৃথিবীর সব মানুষ এক ও অভিন্ন।
উদ্দীপকে আজম সাহেবের কর্মকাণ্ডে মানবীয় আদর্শের পরিচয় ফুটে উঠেছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য প্রাপ্ত ত্রাণসামগ্রী নিজ হাতে বিতরণ করে তিনি এখানে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর লোভ, হিংসা, ধর্ম, বর্ণ, উঁচু-নিচু ভেদ বিচার নেই। তিনি সবাইকে সাম্যের দৃষ্টিতে দেখেছেন। এই আজম সাহেবের বিপরীত চরিত্র পাওয়া যায় 'মানুষ' কবিতায় মোল্লা সাহেবের মধ্যে। সে মসজিদের উদ্বৃত্ত গোস্ত-রুটির আনন্দে আত্মহারা। অথচ সাত দিনের ভুখা এক মুসাফির তার কাছে খাবার প্রার্থনা করলে নামাজ না পড়ার অজুহাতে তাকে ফিরিয়ে দেয় এবং সমস্ত খাবার মসজিদে রেখে মোল্লা তালা লাগিয়ে দেয়। মোল্লার এই আচরণ অমানবিক এবং অসাম্যের। কারণ স্রষ্টার কাছে ধনী, নির্ধন সব মানুষই সমান।