1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন এবং 'খ' প্রক্রিয়াটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন। দুটি প্রক্রিয়াই জীবজগতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার আয়তন ও পরিমাণগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়। এর ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। সাধারণত সব বহুকোষী জীবেই জাইগোট বার বার মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে অসংখ্য অপত্য কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে পরিপূর্ণ জীবে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট অপত্য কোষে ক্রোমোসোমের সংখ্যা ও গুণাগুণ মাতৃকোষের মতো হওয়ায় জীবদেহের বৃদ্ধিও সুশৃঙ্খলভাবে হয়ে থাকে। তাছাড়া সৃষ্ট কোষের আকার, আকৃতি ও আয়তন সুষম থাকায় জীবের মধ্যে ভারসাম্য এবং গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা রক্ষিত হয়। তাছাড়া জনন কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি, ক্ষতস্থানে নতুন কোষ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজও করে থাকে।
অপরদিকে, জীবজগতে মিয়োসিস প্রক্রিয়ার গুরুত্বও অপরিসীম। যৌন জননক্ষম জীবে মিয়োসিসের ফলে জননকোষ তৈরি হয়। জননকোষের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয় এবং এরা বংশবৃদ্ধি ঘটায়। মিয়োসিস না ঘটলে এ সকল জীবের বংশবৃদ্ধি অসম্ভব। আবার মিয়োসিসের কারণেই প্রত্যেকটি জীবে ক্রোমোসোেম সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে এবং বংশানুক্রমে তা সন্তান-সন্ততিতেও অপরিবর্তিত থাকে। মিয়োসিসের মাধ্যমে ক্রসিংওভারের কারণে ক্রোমোসোমে জিনের বিনিময় ঘটে। এর ফলে জীব প্রজাতিতে বৈচিত্র্যতা দেখা যায়। আবার মিয়োসিস না ঘটলে প্রতি বংশধরে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেতে থাকত, যা জীবজগতের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সুতরাং, মাইটোসিস ও মিয়োসিস দুটি প্রক্রিয়াই জীবজগতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।