1 Answers
হতাশা নয় বরং মরিয়মের ধৈর্য ও আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাবই 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের জীবন শৈবালের নীরের মতো ক্ষণস্থায়ী। তাই জগৎ-সংসারে মানুষকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হয়। তাই জীবনকে মহিমান্বিত করতে হলে ব্যর্থতা পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হয়।
উদ্দীপকে পদ্মার তীব্র ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মরিয়মের মধ্যে হতাশা দূর করে কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে জীবনে সফলতা অর্জনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। সে দোতলা বাড়ি, ফসলের জমি হারিয়েও হতাশ হয়নি। কারণ তার মূল্যবান জীবন সে হারায়নি। অতীত বিত্তবৈভবের জন্য হাহাকারকারী স্বামীকে সে সান্ত্বনা দিয়েছে। উদ্দীপকের মরিয়মের এই ধৈর্য ও আত্মপ্রত্যয় 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার কবির পরামর্শের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি এখানে মানুষকে পৃথিবীতে সাহসী যোদ্ধার মতো সংগ্রাম করে টিকে থাকতে বলেছেন। তিনি মানুষকে জীবনযুদ্ধে ভীত না হয়ে নিরন্তর সংগ্রাম করে চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি মানবজীবনের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করেছেন। মানবজীবন যে- অত্যন্ত মূল্যবান তা বোঝাতে তিনি এর প্রতি সবাইকে যত্নবান হতে বলেছেন। জীবনের সমস্ত জড়তা, হতাশা পিছনে ফেলে নতুন উদ্যমে মূল্যবানতো বোঝাড়ে তোলার যে দিক 'জীবন-সঙ্গেীত' কবিতায় প্রতিফলিত তা উদ্দীপকের মরিয়মের মানসিকতায় পাওয়া যায়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।