1 Answers
জামিল সাহেব কর্তৃক আদায়কৃত ইবাদতটি হলো যাকাত। পার্থিব জীবনে যাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
যাকাত একটি কল্যাণকর ইসলামি অর্থব্যবস্থা। যাকাতের মাধ্যমে সমাজে অভাব-অনটন থাকে না এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরে আসে। পক্ষান্তরে, যাকাত অনাদায়ে সমাজে নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সমাজের সকলকে ইসলাম সমমর্যাদা দিয়েছে। যাকাত চালুর মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে। উভয়কে সমপর্যায়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। "প্রত্যেক মুসলমান পরস্পরের ভাই'- ইসলামের এ ধারণাকে যাকাত আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। যাকাতের সম্পদ প্রদানের মাধ্যমে ধনী ও গরিব শ্রেণির মাঝে একটা ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি হয়।
পুঁজিবাদী তথা ধনী ব্যক্তিদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার জঘন্য প্রবণতা হ্রাসে যাকাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাকাত ব্যবস্থার ফলে এক ব্যক্তির সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখার কোনো সুযোগ থাকে না। যাকাত প্রদানের মাধ্যমে বিত্তশালীদের দানশীল মানসিকতার বিকাশ ঘটে। যার ফলে তারা অনেক জনহিতকর কাজে অর্থব্যয়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে। এছাড়া যাকাত প্রদানের শরিয়ত নির্ধারিত ৮টি খাত আছে, যা জনকল্যাণমূলক।
যাকাতের অর্থের ফলে সমাজে দুঃখী, দরিদ্র, অভাবীদের সংখ্যা হ্রাস পায়। তাদের দারিদ্র্য বিমোচনের ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়। ফলে দেশীয় ও বহির্বিশ্বের ঋণের দায়ভার থেকে রাষ্ট্র ও জনসাধারণ মুক্তিলাভ করে থাকে। যাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রদের মাঝে সহানুভূতি সৃষ্টি হয়। গরিবরা তাতে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ হয়।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে আমরা বলতে পারি, যাকাত একটি কল্যাণকর অর্থব্যবস্থা। যাকাত ধনী ও গরিবের মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করে।