1 Answers

সিয়ামের কর্মকাণ্ডে নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে।

মানুষের ভিড়ের কারণে একজন বয়স্ক মহিলা বাসে উঠতে না পারায় সিয়াম তাকে সম্মানের সাথে বাসে উঠার ব্যবস্থা করে। তার এ কাজে নারী জাতিকে সম্মান করা হয়েছে। ইসলাম নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। মহানবি (স.) তাঁর কথা ও কাজে এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

রাসুল (স.)-এর আমলে গোটা বিশ্বে নারীদের কোনো সম্মান ও মর্যাদা ছিল না। তারা ছিল ভোগ্যপণ্যের ন্যায় এবং পুরুষদের ক্রীতদাসী বা যৌনদাসী। রাসুল (স.)-ই সর্বপ্রথম তাদের মায়ের মর্যাদা দিলেন। রাসুল (স) ঘোষণা করলেন, "মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।” তিনি বললেন, "আল্লাহর হকের পরেই মায়ের হক এবং মায়ের হক পিতার হকের তিনগুণ।” তিনি বাস্তবে তা করলেন। হযরত হালিমা (রা.)-কে যেভাবে তিনি সম্মান দিয়েছেন তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি কন্যাসন্তানকে হত্যা করা নিষিদ্ধ করলেন। স্ত্রী ও দাসীদের সুনির্দিষ্ট মর্যাদা ঘোষণা করলেন। বিবাহের মাধ্যমে পবিত্র জীবনযাপনের পদ্ধতি বলে দিলেন। পুরুষ জাতিকে স্ত্রীদের সাথে সম্মানজনক আচরণ করার জন্য এবং তাদের খোরপোষের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে সম্পদের উত্তরাধিকারী বানালেন এবং সম্পদে তাদের প্রাপ্য অংশ ঘোষণা করলেন। এমনিভাবে রাসুল (স.) নারীদের সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করলেন।

সিয়াম রাসুল (স.)-এরই অনুসরণ করেছেন। সিয়ামের এ কাজ সম্পর্কে তার বাবা বলেন, আমাদের সবারই সিনিয়র নাগরিকদের সম্মান দেওয়া উচিত। তার এ উক্তিটি যথার্থ। কারণ বড়দের প্রতি সম্মান দেওয়া মহানবি (স.)-এর নির্দেশ। তিনি বলেছেন, "যে বড়দের সম্মান করে না এবং ছোটদের স্নেহ করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” অর্থাৎ সে মুসলিম সমাজভুক্ত নয়। তাছাড়া সিনিয়র নাগরিকগণ মানবিক কারণেও সম্মান পাওয়ার যোগ্য, অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। কারণ তারাই আমাদেরকে বড় করে তোলেন। তাই সিয়ামের বাবার মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সঠিক।

4 views

Related Questions