1 Answers
'কর্মের মাধ্যমেই মানুষের মূল্যায়ন হয়'- কথাটি সঠিক। উদ্দীপক ও 'মমতাদি' গল্পের আলোকে বিষয়টি নিচে তুলে ধরা হলো।
গৃহকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিরা সবার মতোই সাধারণ মানুষ। তারাও সবার স্নেহ-মমতা, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখে। ছোট কাজ করে বলে তাদেরকে অবহেলা বা অমর্যাদা করা উচিত নয়। কর্ম দ্বারা মানুষকে মূল্যায়ন করা উচিত।
'মমতাদি' গল্পে লেখক তার বাড়িতে গৃহকর্মে নিয়োজিত অভাবী মানুষের প্রতি মানবিক ও সহনশীল আচরণের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। মমতাদি তার কাজে মনোযোগী। গৃহকর্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে তাকে কেউ অবহেলা করেন না। বাড়ির সবাই তাকে তাদের পরিবারেরই একজন মনে করেন। গৃহকর্ত্রী তাকে সন্তানস্নেহে কথা বলেন। বাড়ির স্কুলপড়ুয়া ছেলেটির প্রতি তার স্নেহ-মমতা প্রকাশ পায়। স্বামীর চাকরি না থাকায় গৃহকর্মে নিয়োজিত হলেও পরে স্বামী চাকরি পেলেও সে কাজ ছাড়তে চায় না। উদ্দীপকের গৃহকর্মে নিয়োজিত ভৃত্য এবং তার মনিবের আচরণ এর বিপরীত। ভৃত্যের দায়িত্বহীনতার কারণে মনিব সেখানে বিরক্ত।
'মমতাদি' গল্পে মমতাদি নিম্নবিত্ত পরিবারের এক গৃহবধূ। স্বামীর চাকরি না থাকায় সংসারের অভাব তাকে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে বাধ্য করেছে। সে অন্যের বাড়িতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে। সে আত্মমর্যাদাও বজায় রেখেছে। আচরণ ও কাজ দ্বারাই সে বাড়ির সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কর্মগুণেই সে গৃহকত্রীর কাছে সন্তানের স্নেহ লাভ করেছে। অন্যদিকে উদ্দীপকের ভৃত্য মনিবের প্রয়োজনীয় কাজ না করে দায়িত্বে অবহেলা করেছে। ফলে মনিব রাগ করে বসে আছে তাকে শাসন করার জন্য। এসব দিক বিচারে তাই আমার বিশ্বাস- কর্মের মাধ্যমেই মানুষের মূল্যায়ন হয়।