1 Answers

নিজেকে অন্যের জন্য উৎসর্গ করে নিঃস্ব হওয়ার চিরাচরিত সত্য অঙ্কিত হয়েছে। উদ্দীপক ও 'নিমগাছ' গল্পের বিষয়বস্তু বিবেচনায় মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে মানুষ পরস্পর নির্ভরশীল। এ কারণে পরোপকারের মহান ব্রতে মানুষের মন উদ্দীপ্ত হয়। পরোপকারে মানুষ প্রকৃত আনন্দ লাভ করে। অথচ অকৃতজ্ঞরা কখনই এই সত্য স্বীকার করে না।

উদ্দীপকে এক মায়ের সন্তানের জন্য জীবন উৎসর্গ করার কথা বলা হয়েছে। এখানে স্বামীহারা খোদেজা বহু কষ্টে একমাত্র ছেলেকে শিক্ষিত করে তুলেছেন। শিক্ষিত হয়ে ছেলে ভালো চাকরি পেয়ে, বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি চলে গেছে। বৃদ্ধ মায়ের প্রতি সে তার দায়িত্ব পালন করেনি। স্বামীহারা নিঃস্ব খোদেজার অবহেলার দিকটি 'নিমগাছ' গল্পে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউয়ের বাড়ির লোকদের অবহেলার শিকার হওয়ার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। সেও পরিবারের সবার জন্য কাজ করে। সবার স্বপ্ন পূরণে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। অথচ কেউ তার কথা, তার স্বপ্নের কথা ভাবে না। তারা উভয়েই যেন নিজেকে অন্যের কল্যাণে নিবেদনের জন্যই সৃষ্টি হয়েছেন।

'নিমগাছ' গল্পে সাধারণ অর্থে নিমগাছ ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গাছ। নিমগাছের ছাল, পাতা, ডাল ইত্যাদি নানাভাবে মানুষের রোগ উপশম করে। নিমগাছ নিঃস্বার্থভাবে অন্যের উপকার করে। এই গল্পের নিমগাছরূপী গৃহকর্ম-নিপুণা গৃহবধূও বাড়ির সবার কাজ করে, উপকার করে। উদ্দীপকের খোদেজাও বহু কষ্টে বহু যত্নে ছেলেকে মানুষ করে উপকার করেছেন। এরা প্রত্যেকেই পরোপকারী। এদিক বিচারে তাই মনে হয়, নিজেকে অন্যের জন্য উৎসর্গ করে নিঃস্ব হওয়ার চিরাচরিত সত্য অঙ্কিত হয়েছে উদ্দীপক ও 'নিগমাছ' গল্পে।

7 views

Related Questions