1 Answers

"উদ্দীপকের শেফালী 'মমতাদি' গল্পের মমতাদিরই প্রতিচ্ছবি।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

আমাদের সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ জীবিকার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। বেঁচে থাকার তাগিদে অনেক সময় তাদেরকে অনেক ছোট কাজও করতে হয়। তাই তাদেরকে অবহেলা না করে বরং তাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।

উদ্দীপকের শেফালী অভাব-অনটনে পড়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও সে নিজের অভাব, দুঃখ-কষ্টের কথা কাউকে বলে না। বরং সে নিজের দায়িত্ব পালন করে যায় অত্যন্ত নিপুণভাবে। দায়িত্বশীলতার সাথে সে বাচ্চাদের দেখাশোনা করে, অন্যান্য কাজকর্মও দক্ষতার সাথে করে। কিন্তু সে নিজের দীনতা অন্যের কাছে বলে করুণার পাত্রী হতে চায়নি। 'মমতাদি' গল্পে মমতাদির স্বামীর আয়রোজগার নেই বলে সে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে আসে। প্রথম দিন বাড়ির গৃহকত্রীর সাথে কথোপকথনের মধ্য দিয়েই তার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পেয়ে যায়। সে কাজ করতে এসেছে ঠিকই কিন্তু নিজের সীমাবদ্ধতা অন্যের সামনে তুলে ধরে করুণা নিতে চায়নি। বরং নিজের কাজকে গুরুত্ব দিয়েছে বেশি। দক্ষতা ও দায়িত্বের সাথে নিজের দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করেছে। গল্পকথকের সাথে তার আচরণ ছিল অত্যন্ত কোমল ও নমনীয়। বাড়ির কাজের প্রতি তার দায়িত্ববোধে সবাই তার প্রতি মুগ্ধ ছিল।

উদ্দীপকের শেফালী অভাব-অনটনে পড়ে কাজ করতে বের হয় অন্যের বাড়িতে। কিন্তু সে তার দুঃখ-দারিদ্র্যের কথা কাউকে না বলে নিজের কাজকে প্রাধান্য দিয়েছে বেশি। এর মধ্য দিয়ে শেফালীর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পেয়েছে। 'মমতাদি' গল্পে মমতাদিও অভাবের কারণে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে বের হয়। কিন্তু কখনই নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে অন্যের দয়া কামনা করেনি, বরং সব কাজে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শেফালী 'মমতাদি' গল্পের মমতাদিরই প্রতিচ্ছবি।

4 views

Related Questions