1 Answers

উদ্দীপকে আকরাম সাহেবের বন্ধু সাদিক সাহেব বলেন, “গ্রন্থটি শুধু অপরিবর্তনীয় নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির পথের দিশারি।” তিনি আল-কুরআনকে অপরিবর্তনীয় বা অবিকৃত মহাগ্রন্থ বলার পাশাপাশি এটিকে মানবজাতির সর্বশেষ দিশারি বলে আলোকপাত করেছেন।

কুরআনুল কারিম আল্লাহ পাকের কালাম। এটি একটি বৈচিত্র্যময় অত্যাশ্চর্য ধর্মগ্রন্থ। পৃথিবীর তাবৎ ধর্মগ্রন্থের মধ্যে কুরআন মজিদ বৈচিত্র্যে ও বৈশিষ্ট্যে অনুপম, অতুলনীয়। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক গীবনের ভাষায়, Quran is a glorious testimony go the vanity of God অর্থাৎ, “কুরআন আল্লাহ তায়ালার 'অদ্বিতীয়তার এক উজ্জ্বল নিদর্শন।” সুদীর্ঘ চৌদ্দ শ বছরের ব্যবধানেও কুরআনে কারিম সম্পূর্ণ অবিকৃত রয়ে গেছে। এর একটি স্বরচিহ্নও পরিবর্তিত হয়নি। পরিমার্জন, পরিশীলন, পরিবর্তন, পরিবর্ধনের প্রয়োজনও কখনো পড়েনি। কোনো কালেও বিকৃত হবে না।

অন্যদিকে, বিশ্বমানবতার ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণের ধারক ও বাহক পবিত্র কুরআন। এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য শাশ্বত ও পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। অর্থাৎ কুরআন মজিদ কোনো বিশেষ জাতি বা গোষ্ঠীর জন্য প্রেরিত হয়নি, এটি সমগ্র মানবজাতির দিশারিরূপে অবতীর্ণ হয়েছে।

কুরআনুল কারিম শরিয়তের প্রধান উৎস। এতে আছে বিশ্বমানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ দিকনির্দেশনা। আল্লাহ বলেন, “কুরআন যা মানুষের সৎপথ প্রদর্শক এবং সৎপথ প্রদর্শনের নির্দেশাবলি এবং সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী।” পৃথিবীর কোনো গ্রন্থই ভুলত্রুটিমুক্ত নয়। কেবলমাত্র কুরআনই এমন একটি গ্রন্থ যা- চিরকালের জন্য বিশুদ্ধ চ্যালেঞ্জোত্তীর্ণ। যেমন- সূরা বাকারায় বলা হয়েছে, "এ গ্রন্থে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।” শুধু কি তাই। মহান আল্লাহ অবিশ্বাসীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, "আর আমি আমার দাস মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি যা কিছু অবতীর্ণ করেছি, এতে যদি তোমাদের সন্দেহ সংশয় থাকে তাহলে এর সূরার মতো আরেকটি সূরা তৈরি করে নিয়ে আস।” কাফিররা শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় এবং তারা বলতে বাধ্য হয়-  لَيْسَ هَذَا كَلَامُ الْبَشَرِ 

অর্থাৎ : এটা কোনো মানুষের কথা নয়।

পরিশেষে বলা যায়, মানবজীবন বহুরূপী সমস্যায় নিয়ত ক্ষতবিক্ষত। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে আল-কুরআন।

4 views

Related Questions