1 Answers
উদ্দীপকের হাদিসটি অর্থ- “মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি, সে যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন প্রতিশ্রুতি প্রদান করে তখন তা ভঙ্গ করে, আর যখন তার নিকট কিছু গচ্ছিত রাখা হয় তখন সে খিয়ানত করে।” (বুখারি ও মুসলিম)
এ হাদিসে মুনাফিকের চারিত্রিক ত্রুটি তুলে ধরা হয়েছে। হাদিসটির সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এ ব্যাপারে আলোচনা করা হলো-
১. কলুষমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়তা: মিথ্যা সকল পাপের মূল। মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে। মিথ্যাবাদী সমাজে ঘৃণার পাত্র। তারা কারোরই আস্থাভাজন হয় না। মুনাফিকরা চরম মিথ্যাবাদী। মুনাফিকরা মিথ্যার দ্বারা সমাজকে কলুষিত করে রাখে। ফলে তারা সমাজে লজ্জিত ও অপমানিত হয়। উল্লিখিত হাদিসটি মিথ্যা থেকে আমাদেরকে বিরত রেখে কলুষমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
২. প্রতিশ্রুতি রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে: প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা মারাত্মক দোষ। মুনাফিকরা। ওয়াদা ভঙ্গ করে সমাজে কারও আস্থাভাজন হতে পারে না। ফলে তারা সমাজে ঘৃণিত হয়; কিন্তু তাদের এ আচরণে সমাজ কলুষিত হয়। হাদিসটি আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে এবং সুন্দর সমাজ গঠনে অপরিসীম অবদান রাখে।
৩. আমানতদার হবার শিক্ষা দেয়: আমানতের খিয়ানত একটি গর্হিত কাজ। মুনাফিকরা আমানতের খিয়ানত করে সামাজিকভাবে সকলের কাছে হেয়প্রতিপন্ন হয়। তাদের সমাজে কারোর কাছে কোনো স্থান থাকে না। মুনাফিকরা যা প্রকাশ করে অন্তরে থাকে তার বিপরীত। যার ফলে তাদের পরিণতি ভয়াবহ। হাদিসটি আমাদেরকে আমানতদার হওয়ার শিক্ষা দেয়। ফলে পরস্পর সামাজিকভাবে শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে।
অতএব উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, আমানত রক্ষা, ওয়াদা পালন করা এবং সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে উল্লিখিত হাদিসটির সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। এরই মাধ্যমে সমাজ সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে ওঠে।