1 Answers

উদ্দীপকে বর্ণিত আকমলের নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে রিসালাত ও নবুয়তের গুরুত্ব অপরিসীম।

নবুয়ত ও রিসালাতের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব, পরিচয় ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞানদান করা। মানুষকে সত্য ও সুন্দরের দিকে পরিচালনা করা। সর্বোপরি ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ ও সফলতার দিক নির্দেশনা প্রদান করা। নবুয়ত ও রিসালাতের চেতনা মানুষের মধ্যকার সমস্ত খারাপ অভ্যাস, অশ্লীলতা ও মন্দ কর্মের চর্চা দূর করে দেয়। মানুষ সৎ ও সুন্দর জীবনযাপনে উৎসাহিত হয়। উত্তম চরিত্র ও নৈতিক আচার-আচরণে উদ্বুদ্ধ হয়। এভাবে নবুয়ত ও রিসালাতের শিক্ষায় মানুষ নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়।

নবি-রাসুলগণ ছিলেন নিষ্পাপ। তাঁরা ছিলেন সকল সৎগুণের অধিকারী। উত্তম চরিত্রের নমুনা ছিল তাঁদের জীবনচরিত। কোনোরূপ অন্যায়, অনৈতিক ও অশ্লীল কাজকর্ম তাঁদের চরিত্রে কখনোই ছিল না। বরং সর্বাবস্থায় নীতি ও নৈতিকতার আদর্শ রক্ষা করাই ছিল তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহযাব: ২১)

বস্তুত নবি-রাসুলগণ ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তাঁদের জীবনী ও শিক্ষা আমাদের জন্য আদর্শ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, "আমি শিক্ষকরূপে প্রেরিত হয়েছি।" (ইবনে মাজাহ)

রাসুলুল্লাহ (স.) ছিলেন মানবতার মহান শিক্ষক। তিনি স্বয়ং বলেছেন, "উত্তম গুণাবলির পরিপূর্ণতাদানের জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি।” (বায়হাকি)

নবুয়ত ও রিসালাতে বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা ইসলামি জীবনদর্শনে প্রবেশ করি। অতঃপর নবি-রাসুলগণের জীবনী ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ কামনা করি। এভাবে আমাদের জীবন ও চরিত্র উত্তম হয়। নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকশিত হয়। মানবসমাজে পশুত্বের পরিবর্তে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে।

5 views

Related Questions