1 Answers
উদ্দীপকটিতে 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের লেখকের মনের অভিব্যক্তিই প্রকাশিত হয়েছে। মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের জীবনের নানা ঘটনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রভৃতির মাধ্যমে পল্লিসাহিত্যে সৃষ্টি হয়েছে। এ সাহিত্যের উপাদানে পল্লির মানুষের জীবনঘনিষ্ঠতার বিষয়টি লক্ষ করা যায়। পল্লিসাহিত্যে মানুষের বাস্তব জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার প্রতিফলন ঘটে।
পল্লিসাহিত্য সম্পদের ভান্ডারে বিচিত্র ধরনের পল্লিগান আছে। জারি, সারি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, রাখালি, মুর্শিদি, মারফতি প্রভৃতি অতুলনীয়। পল্লির মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে থাকা এসব গানে কত প্রেম, কত আনন্দ, কত সৌন্দর্য, কত তত্ত্বজ্ঞান যে জড়িয়ে আছে তা বলে শেষ করা যায় না। যুগ যুগ ধরে এগুলো পল্লিবাসীর মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আসছে। পল্লিসাহিত্যের এসব উপাদানের প্রতি অনুরাগ উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে পল্লিসাহিত্যের নানা উপাদানের কথা বলা হয়েছে। যা বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। এগুলো সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। সংরক্ষণ করা না হলে এক সময় এগুলো হারিয়ে যাবে। 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধে লেখক পল্লির অমূল্য সম্পদ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পল্লিসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো আমাদের সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
উদ্দীপকটি 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের লেখকের মনের অভিব্যক্তিই প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকে শুধু পল্লিগান, ভাটিয়ালি গানের কথা বলা হলেও পল্লিসাহিত্যের প্রতি অভিন্ন অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। তার পাশাপাশি পল্লিগানের সংরক্ষণের বিষয়টিও এসেছে। শহুরে গানের প্রভাবে সেগুলো এখন বর্বর চাষার গান বলে ভদ্রসমাজে আর বিকোয় না। এগুলো পল্লির প্রাচীন সম্পদ। এদেশের আলো-বাতাসের মতো সকলের সাধারণ সম্পত্তি। উদ্দীপকের বক্তব্য 'পল্লিসাহিত্য' প্রবন্ধের লেখকের কথার সঙ্গে মিলে যায়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।