1 Answers

উদ্দীপকের সেলিম সাহেবের আচরণে শ্রমিকের অধিকার বা বান্দার হক লঙ্ঘিত হয়েছে। তিনি শ্রমিকদের পাওনা প্রদানে প্রায়ই গড়িমসি করেন। অথচ মহানবি (স.) বলেছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।” (ইবনে মাজাহ) হাদিস দ্বারা শ্রমিকের পাওনা যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা শ্রমিকরা সাধারণত গরিব ও নিঃস্ব শ্রেণির হয়ে থাকে। তারা তাদের শ্রমের মজুরি দিয়ে চাল, ডাল, তরিতরকারি ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে জীবনধারণ করে। তাই তার পাওনা পেতে দেরি হলে শ্রমিক ও তার পরিবার অভুক্ত থেকে কষ্ট পাবে। ফলে শ্রমিকের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিবে এবং এ অসন্তোষ থেকে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর যদি শ্রমিক তার ন্যায্য পাওনা যথাসময়ে পায়, তাহলে তার মনে আনন্দ থাকবে এবং সে উৎসাহের সাথে কাজ করবে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কিন্তু সেলিম সাহেব মুসলিম হয়েও নবি (স.)-এর আদেশের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন। তার এ কাজ দ্বারা হাক্কুল ইবাদ বিঘ্নিত হয়েছে এবং তার অসাধু চরিত্রের প্রকাশ ঘটেছে। সেলিম সাহেবের স্মরণ রাখা দরকার, শ্রমিকরা কষ্ট করে পণ্য উৎপাদন করার কারণে তার কারখানা চালু থাকে এবং তিনি কারখানার মালিক হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন। এজন্য তাদের পাওনা সঠিকভাবে দেওয়া উচিত।

শ্রমিকদের পাওনা হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার অধিকার। হাক্কুল ইবাদ পালনে মহান আল্লাহ কঠোর নির্দেশ জারি করেছেন। তাই সেলিম সাহেবের উক্ত আচরণের সংশোধন হওয়া জরুরি।

6 views

Related Questions