1 Answers
উদ্দীপকে উল্লেখিত জনাব সহিদুল ইসলামের বাগানের উপাদেয় শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে যৌক্তিক বিভাগের মূলসূত্র ব্যবহারের নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো-
যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে একই সময় একটি মাত্র মূলসূত্র ব্যবহার করে একটি পদকে বিভক্ত করতে হয়। There should be only one principle of division at a time. অর্থাৎ বিভাজন-প্রক্রিয়ায় একই সময় একাধিক মূলসূত্র ব্যবহার করা যুক্তিসিদ্ধ নয়। যেমন: 'শিক্ষা' মূলসূত্রের ভিত্তিতে 'মানুষ' শ্রেণিকে 'শিক্ষিত' ও 'অশিক্ষিত' এ দুটি উপশ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। কিন্তু এই 'মানুষ' শ্রেণিকেই একই সাথে 'শিক্ষা', 'সততা', 'জ্ঞান' ইত্যাদি মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভক্ত করা যাবে না। আর তা যদি করা হয়, তাহলে বিভাজন প্রক্রিয়ায় আলোচ্য নিয়মের লঙ্ঘন ঘটবে। ফলে এ ক্ষেত্রে সংকর বিভাগ নামক একটি অনুপপত্তির সৃষ্টি হবে।
অর্থাৎ বিভাগের ক্ষেত্রে একই সময় একাধিক গুণকে মূলসূত্র হিসেবে গ্রহণ করে কোনো জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদকে বিভক্ত করা হলে যৌক্তিক বিভাগে যে ভ্রান্তির সৃষ্টি হয়, তাকে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি বলে। যেমন: মানুষ শ্রেণিকে একই সাথে 'বর্ণ' ও 'উচ্চতা' এ দুটি মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হলে এ ক্ষেত্রে যে দুটি উপশ্রেণির উদ্ভব ঘটবে, তা হলো 'লম্বা ও ফর্সা মানুষ' এবং 'বেঁটে ও কালো মানুষ'। যদিও বিভাজনের এই প্রক্রিয়াটি যুক্তিসংগত নয়। কারণ এমন অনেক মানুষ আছে যারা লম্বা কিন্তু ফর্সা নয়; আবার এমন অনেক মানুষ আছে যারা লম্বা নয় কিন্তু ফর্সা। কাজেই মানুষ শ্রেণির এই অযৌক্তিক বিভাজন লম্বা, বেঁটে, ফর্সা, কালো- এ চারটি শ্রেণির মধ্যে মিশ্রণ ঘটিয়ে এ ক্ষেত্রে সংকর বিভাগ অনুপপত্তির সৃষ্টি করেছে। উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, উদ্দীপকে মূলসূত্র ব্যবহারের নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে।