1 Answers
তানহা পবিত্র কুরআন ও মহানবি (স.)-কে ঠাট্টা উপহাস করেন। তার এ উপহাস কুফরির অন্তর্ভুক্ত। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সূরা মুতাফফিফিনের ২৯-৩৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে- "নিশ্চয় পাপাচারীরা দুনিয়াতে মুমিনদের নিয়ে উপহাস করত। আর যখন পার্শ্ব অতিক্রম করত চোখ টিপত। আর যখন নিজগৃহে ফিরে যেত তখন আপনজনদের সাথে হাসি ঠাট্টা করত। আর যখন তাদেরকে দেখত, তখন তারা বলত নিশ্চয় এরা পথভ্রষ্ট।”
তানহার কর্মকাণ্ডের পরিণতি হলো-দুনিয়াতে সে কাফির হিসেব। গণ্য হবে এবং পরকালে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। তার এ কর্মকান্ডের জন্য আরও যেসব কুফল দেখা দিবে তা হলো-
১. তানহা আল্লাহ তায়ালাকে অবিশ্বাস করে, তার নিয়ামত অস্বীকার করে। সে আল্লাহ তায়ালার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়। সে আল্লাহ তায়ালার বিধি-নিষেধ অমান্য করার কারণে সমাজে সে অবাধ্য ও অকৃতজ্ঞ হিসেবে পরিচিত হবে।
২. তানহার নিকট দুনিয়ার জীবনই প্রধান। সুতরাং দুনিয়ায় ধন- সম্পদের ও আরাম আয়েশের লোভে সে নানারকম অসৎ ও অশ্লীল কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, সুদ-ঘুষ, জুয়া ইত্যাদিতে সে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারে।
৩. তানহা আল্লাহ তায়ালা ও তকদিরে অবিশ্বাস করে। ফলে সে যেকোনো বিপদে আপদে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ে। অন্যদিকে তকদিরে বিশ্বাস না থাকায় যেকোনো ব্যর্থতায় সে চরম হতাশ হয়ে পড়ে। ফলে তার জীবন চরম হতাশার মধ্যে অতিবাহিত হয়।
৪. তানহার আখিরাত, জান্নাত ও জাহান্নামে বিশ্বাস না থাকায় দুনিয়ার স্বার্থে মিথ্যাচার, অনাচার, ব্যভিচার ইত্যাদি যেকোনো পাপ ও অনৈতিক কাজ সে বিনা দ্বিধায় করতে পারে। এভাবে তার মাধ্যমে সমাজে অনৈতিকতার প্রসার ঘটে।
৫. তানহা আল্লাহ তায়ালার বিধি বিধান ও আদেশ-নিষেধের কোনো পরোয়া করে না। বরং আল্লাহ তায়ালা, ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে বিদ্রোহ ও বিরোধিতা করে। ফলে আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন।
সুতরাং এটা সুস্পষ্টভাবে বলা যায়, তানহার কর্মকান্ডের পরিণাম ও কুফল অত্যন্ত ভয়ংকর।