1 Answers

উদ্দীপকে জনাব সাহাদাৎ হোসেনের কাজ তথা শ্রেণিকরণের সাথে সংজ্ঞার সম্পর্ক নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

শ্রেণিকরণ হচ্ছে সংখ্যাবহুল গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ভিত্তিতে জাগতিক বস্তু বা ঘটনাসমূহ মানসিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ করার প্রক্রিয়া। আর সংজ্ঞা হচ্ছে বস্তু বা ঘটনার আবশ্যিক গুণের উল্লেখ করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বস্তু বা ঘটনা সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারণা প্রদানের প্রক্রিয়া। অর্থাৎ উভয়েরই লক্ষ্য হচ্ছে বস্তু বা ঘটনার আবশ্যিক বা অনিবার্য গুণকে বিবৃত করা। এদিক থেকে শ্রেণিকরণ ও সংজ্ঞা গভীরভাবে সম্পর্কিত। কেননা যেসব গুণকে সংজ্ঞায় অনিবার্য বলে বিবেচনা করা হয়। সেগুলোই শ্রেণিকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে মূলত প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণকে সংজ্ঞার সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে। কারণ কৃত্রিম শ্রেণিকরণকে বাহ্যিক ও অবান্তর সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বস্তু বা ঘটনাসমূহের শ্রেণিবিন্যাস করা হয় বলে এক্ষেত্রে সংজ্ঞা সম্পর্কিত জ্ঞান থাকার প্রয়োজন হয় না। এ কারণে সংজ্ঞার সাথে কৃত্রিম শ্রেণিকরণের কোনো সম্পর্ক নেই। বস্তুত প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণে বস্তু বা ঘটনাসমূহের অন্তর্গত মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় বিধায় এরূপ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পূর্ব থেকে যথাযথ জ্ঞান থাকার প্রয়োজন হয়। আর সংজ্ঞার মাধ্যমেই বস্তুর গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য গুণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয়। তবে পরস্পর সম্পর্কিত হলেও শ্রেণিকরণ ও সংজ্ঞা অভিন্ন নয়, বরং এদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কতগুলো পার্থক্য বিদ্যমান। যেমন :

এক. শ্রেণিকরণ হচ্ছে পদের ব্যক্তর্থের বিশ্লেষণ আর সংজ্ঞা হচ্ছে পদের জাত্যর্থের বিশ্লেষণ।

দুই, শ্রেণিকরণ হচ্ছে আরোহমূলক প্রক্রিয়া; পক্ষান্তরে, সংজ্ঞা হচ্ছে অবরোহমূলক প্রক্রিয়া।

তিন, শ্রেণিকরণ হচ্ছে বস্তুগত প্রক্রিয়া; আর সংজ্ঞা হচ্ছে রূপগত প্রক্রিয়া।

উল্লেখ্য, শ্রেণিকরণ ও সংজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও এ কথা অনস্বীকার্য যে, প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের ভিত্তি হচ্ছে সংজ্ঞা। অর্থাৎ সংজ্ঞা সম্পর্কিত জ্ঞানই হলো শ্রেণিকরণ করার জ্ঞান।

4 views

Related Questions