1 Answers
উদ্দীপকে জনাব মজিদ তার কাজে যুক্তিবিদ্যার শ্রেণিকরণের জ্ঞান প্রয়োগ করেছেন। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
যুক্তিবিদ্যায় আলোচিত যুক্তিপদ্ধতির একটি সহায়ক প্রক্রিয়া হিসেবে শ্রেণিকরণ হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে জাগতিক জটিল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ বস্তুরাশি ও ঘটনাবলিকে নিয়মানুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করে এগুলোর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা যায়। শ্রেণিকরণ হচ্ছে একটি মানসিক প্রক্রিয়া। কাজেই এককথায় বলা যায়, জাগতিক বস্তুরাশি বা ঘটনাবলিকে মানসিকভাবে সুবিন্যস্ত করার মাধ্যমে এগুলো সম্পর্কে সুশৃঙ্খল জ্ঞান লাভের প্রক্রিয়াই হচ্ছে শ্রেণিকরণ। সাধারণভাবে শ্রেণিকরণ একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত্ব, যার মাধ্যমে জগতের অসংখ্য বিষয় সম্পর্কে সুনিয়ন্ত্রিত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব।
শ্রেণিকরণের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা যায়, বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে জাগতিক বিষয়বস্তুকে তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে মানসিকভাবে একত্রিত করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে শ্রেণিকরণ। অবশ্য শ্রেণিকরণের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিড এর বক্তব্যটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য এবং সর্বজনগ্রাহ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কার্ডেথ রিড বলেন, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বস্তু বা ঘটনাসমূহের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য অনুসারে সেগুলোকে মানসিক দিক থেকে সন্নিবেশিত করাই হলো শ্রেণিকরণ। এছাড়া দর্শনের অভিধানে শ্রেণিকরণের একটি সন্তোষজনক সংজ্ঞা পাওয়া যায়। সংজ্ঞাটি হলো, "বস্তুর সাধারণ ধর্ম আবিষ্কারের ভিত্তিতে বস্তুকে শ্রেণিভুক্ত করা বা বিন্যস্ত করার ফলই হলো শ্রেণিকরণ। উদাহরণস্বরূপ, জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে পুষ্পের উপস্থিতির সাদৃশ্য এবং অনুপস্থিতির বৈসাদৃশ্য অনুসারে উদ্ভিদসমূহকে সপুষ্পক উদ্ভিদ ও অপুষ্পক উদ্ভিদ- এ দুশ্রেণিতে মানসিকভাবে বিন্যস্ত করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে শ্রেণিকরণ।