1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত মরিয়মের স্বামী বিষয়টিতে যুক্তিবিদ্যার প্রকৃত আরোহের জ্ঞান প্রয়োগ করেছেন। প্রকৃত আরোহের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো- বৈজ্ঞানিক আরোহ সর্বদা একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করে। নিচে এ বৈশিষ্ট্যটি বিশ্লেষণ করা হলো-
বৈজ্ঞানিক আরোহের সংজ্ঞা ও উদাহরণ বিশ্লেষণ করে আমরা যে কয়টি বাক্য লক্ষ করছি তার মধ্যে আমরা তিনটি বিশেষ দিকের প্রতি গুরুত্বারোপ করছি। যথা:
• বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি যুক্তিবাক্য স্থাপন করে: একটি যুক্তিবাক্যে দুটি পদের মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপন করে। বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তে আমরা দুটি পদের মধ্যে একটি সম্পর্ক নির্ণয়ের চেষ্টা করি। যেমন: 'মানুষ' ও 'মরণশীল'।এই দুটি পদের মধ্যে একটি সম্পর্ক আবিষ্কার করার পর 'মানুষ হয় মরণশীল।'- এ যুক্তিবাক্যটি স্থাপন করি।
• বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি সার্বিক বাক্য স্থাপন করে: এই বৈশিষ্ট্যটির প্রধান লক্ষ্য হলো কোনো শ্রেণির সমগ্র বস্তুসমষ্টি বা ঘটনাসমষ্টি সম্বন্ধে কোনো নতুন ও সার্বিক তথ্য প্রদান করে। যেমন: 'সব মানুষ হয় মরণশীল।'
• বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন করে : বৈজ্ঞানিক আরোহ যে সার্বিক যুক্তিবাক্যটি স্থাপন করে তা একটি সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য, বিশ্লেষক যুক্তিবাক্য নয়। বৈজ্ঞানিক আরোহে আমরা জানা থেকে অজানায় গমন করি, নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিতে গমন করি। কাজেই এর সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রেই সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য। যেমন : 'সব মানুষ হয় মরণশীল।' যুক্তিবাক্যে 'মরণশীল' কথাটি দ্বারা মানুষ সম্পর্কে একটি নতুন তথ্যকে সংযোজন করা হয়েছে। সুতরাং এটি একটি সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক আরোহের প্রথম কয়েকটি বাক্য আশ্রয় বাক্য এবং শেষের বাক্যটি সিদ্ধান্ত।