1 Answers
উদ্দীপকে ব্যাখ্যার প্রকারভেদ, অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও লৌকিক ব্যাখ্যার স্বরূপ সম্পর্কে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এ দুটি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
প্রকৃতির নিয়মকানুন অনুযায়ী ঘটনাবলির কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যাদান করাই হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকরণ। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকরণ হলো ঘটনার কারণ বা নিয়ম আবিষ্কার করা। অন্যান্য ঘটনার সাথে সাদৃশ্যগুলো খুঁজে বের করা এবং অল্প ব্যাপক নিয়মকে অধিক ব্যাপক নিয়মের অধীনে আনা, একটি ঘটনার কার্যকারণ নিয়মকে আবিষ্কার করে তার ব্যাখ্যা করা যায়। আবার আলোচ্য ঘটনার সাথে অন্য ঘটনার সাদৃশ্যসমূহ আবিষ্কার করেও ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। ঘটনাটি কোনো অল্প ব্যাপক নিয়ম হলে তাকে অধিক ব্যাপক নিয়মের অধীনে এলেও ব্যাখ্যা করা যায়; যেমন: জোয়ার-ভাটা ও জড়বস্তুর ভূপতনের মতো অল্প ব্যাপক নিয়মকে অধিক ব্যাপক মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা যায়। কারণ উভয়ের মধ্যে আকর্ষণের নিয়ম কাজ করছে।
অন্যদিকে প্রাকৃতিক নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের উপর নির্ভর না করে যে ব্যাখ্যার কোনো ঘটনাকে কোনো অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক শক্তির সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে বলে লৌকিক ব্যাখ্যা। সাধারণ মানুষ যুক্তি বা বিচার-বিশ্লেষণ সম্পর্কে অজ্ঞ এবং তাদের বৈজ্ঞানিক' জ্ঞান নিতান্ত সীমিত। তারা ঘটনার এরূপ ব্যাখ্যাকরণে তুষ্ট থাকতে অভ্যস্ত।
উদ্দীপকে সাধারণ অশিক্ষিত মানুষ চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছে, তা হচ্ছে লৌকিক ব্যাখ্যা এবং শিক্ষিত সচেতন মানুষের বক্তব্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আওতাভুক্ত।