1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত কাকতালীয় অনুপপত্তি ঘটেছে। আর এই অনুপপত্তি ঘটে ব্যতিরেকী পদ্ধতির অসতর্ক প্রয়োগের ফলে। নিচে এই পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো-

জে. এম. মিল প্রবর্তিত পরীক্ষণমূলক পদ্ধতির অন্যতম একটি হলো ব্যতিরেকী পদ্ধতি। ব্যতিরেকী পদ্ধতির অর্থ হচ্ছে পার্থক্যের পদ্ধতি। এ পদ্ধতি মাত্র দুটি উদাহরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এদের একটিতে আলোচ্য ঘটনা এবং তার সাথে অপর একটি অবস্থা উপস্থিত থাকে। দৃষ্টান্ত দুটির মধ্যে অনেক দিক দিয়েই মিল থাকে। শুধু একটি বিষয়ে পার্থক্য থাকে। আর তা হলো, আলোচ্য ঘটনা এবং একটি অবস্থার উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি। এদিকে লক্ষ রেখে উভয়ের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। যেমন : সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলি অপরিবর্তিত রেখে বায়ুপূর্ণ কোনো স্থানে ঘণ্টা বাজালে শব্দ শোনা যায়। কিন্তু বায়ুহীন কোনো স্থানে ঐ ঘণ্টা বাজালে শব্দ শোনা যায় না। সে ভিত্তিতে বলা যায় বায়ুর উপস্থিতিই হলো শব্দ হওয়ার কারণ।

আবার অক্সিজেন আছে এমন একটি ক্ষেত্রে মোমবাতি জ্বালানোর ফলে বাতি জ্বলছে। সে ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যে, অক্সিজেনের উপস্থিতি হলো আগুন জ্বলার কারণ। ব্যতিরেকী পদ্ধতির সাহায্যে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত স্থাপন করা যায়। ব্যতিরেকী পদ্ধতির সাহায্যে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করা যায় এবং ব্যতিরেকী পদ্ধতির বহুল ব্যবহার আমরা দেখতে পাই। যদিও ব্যতিরেকী পদ্ধতির প্রয়োগ সীমিত এবং কষ্টসাধ্য।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে দুটি দৃষ্টান্তের মাঝে ব্যতিরেকী বা অমিলের ভিত্তিতে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়।

5 views

Related Questions