1 Answers
হ্যাঁ, উদ্দীপকের ঘটনা দুটিকে শক্তির অবিনশ্বরতা মতবাদ অনুসারে ব্যাখ্যা করা যায়।
শক্তির অবিনশ্বরতা নিয়মানুসারে এক প্রকার শক্তি অন্য প্রকার শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। শক্তির রূপের পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু শক্তির পরিমাণের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। বিশ্বজগতের সামগ্রিক শক্তির পরিমাণ সবসময়ই অপরিবর্তিত থাকে। বাস্তবে শক্তির কোনো ধ্বংস নেই; এর কোনো হ্রাস বা বৃদ্ধিও নেই। এ নিয়ম অনুসারে কারণ ও কার্য হচ্ছে শক্তির দুটি ভিন্ন অবস্থা। কারণ ও কার্যশক্তির রূপান্তর ছাড়া আর কিছুই নয়; কারণরূপ শক্তি পরিবর্তিত হয়ে কার্যরূপ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ মতে, কারণের যে শক্তি থাকে তা পরিবর্তিত হয়ে আবার একই পরিমাণে ভিন্ন শক্তিরূপে আবির্ভূত হয়। সুতরাং পরিমাণের দিক থেকে কারণ ও কার্য সমান।
শক্তির অবিনশ্বরতার নিয়মানুসারে কারণ ও কার্য উভয়ই শক্তিবিশেষ। কারণ হচ্ছে শক্তির পূর্ব অবস্থা এবং কার্য হচ্ছে পরবর্তী অবস্থা। সুতরাং কার্য হচ্ছে এমন একটি কারণ, যা রূপান্তরিত হয়েছে এবং কারণ হচ্ছে এমন একটি কার্য, যা রূপান্তরিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, বিদ্যুৎকে আমরা আলোর কারণ মনে করি; আসলে বিদ্যুৎশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। অনুরূপভাবে ঘটনা-১ ও ঘটনা-২ এ লঞ্চডুবি হলো অনেক মানুষের মৃত্যুর কারণ এবং অনেক মানুষের মৃত্যু হলো লঞ্চডুবির কার্য। এক্ষেত্রে লঞ্চডুবি ও মানুষের মৃত্যু ২টিই শক্তি; যেখানে কারণরূপ শক্তি রূপান্তরিত হয়ে কার্যরূপ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা দুটিকে শক্তির অবিনশ্বরতা মতবাদ অনুসারে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।