1 Answers

উদ্দীপকে জমিরের অনুমানটি কাল্পনিক, অবাস্তব ও প্রমাণের অযোগ্য। এটি প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠার উপায় নিচে বর্ণিত হলো-

বাস্তব কারণ বলতে এখানে মূলত 'সত্য কারণ' নির্দেশ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও অভিজ্ঞতানির্ভর হবে। কাজেই কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে প্রণীত একটি বৈধ প্রকল্পের ভিত্তি হিসেবে সর্বদা অস্তিত্বশীল বা বাস্তব কারণ চিহ্নিত করতে হবে, যাকে পরীক্ষা বা যাচাই করার মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব। অর্থাৎ প্রকল্পটি এমন ঘটনা বা বিষয়বস্তুর নির্দেশক হবে, যার অস্তিত্ব প্রকৃতিতে থাকা সম্ভব। কাজেই এ ক্ষেত্রে কাল্পনিক, অবাস্তব, প্রমাণের অযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নয় এমন কোনো বিষয় প্রকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা এ ধরনের প্রকল্প প্রাকৃতিক ঘটনাবলির ব্যাখ্যাদানে অক্ষম।

বস্তুত প্রকল্প প্রণয়নের মাধ্যমে যথার্থ কারণ অনুসন্ধানে বাস্তব কারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে সাধারণ মানুষ অনেক সময় তাদের অজ্ঞতা, শিক্ষার অভাব বা কুসংস্কারের কারণে অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত বিষয়কে ঘটনার কারণ বলে মনে করে থাকে, যা ঘটনার ব্যাখ্যায় যথার্থ নয়। কাজেই কোনো ঘটনার ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে কুসংস্কারমুক্ত হয়ে বাস্তব ঘটনা নিরীক্ষণের মাধ্যমে এমনভাবে প্রকল্প প্রণয়ন করতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে যাচাই বা পরীক্ষা করে এর মধ্যকার অস্তিত্বশীল কারণ বা বাস্তব কারণকে উদ্‌ঘাটন করা যায় এবং এর মাধ্যমে ঘটনাটির সত্যতা বা যথার্থতা প্রতিপাদন করা সম্ভব হয়। কেননা প্রকল্পের বৈধতার জন্য এর বাস্তব ঘটনাভিত্তিক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

উদ্দীপকে জনাব মফিজউদ্দিনের গরুর খামার থেকে একটি গরু হারিয়ে গেলে এর কারণ হিসেবে বিভিন্নজন বিভিন্ন অনুমান করতে থাকে। এদের মধ্যে একজন জনাব জমির অনুমান করে, হয়তো গরুটি ভূতে নিয়ে গেছে। কিন্তু তার অনুমানকে আমরা প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না। কারণ এতে প্রকল্প গঠনের অন্যতম শর্ত 'বাস্তব প্রমাণ' বিষয়টি পূরণ হয়নি বরং তার অনুমানটি অবাস্তব। কাল্পনিক প্রমাণের অযোগ্য ছিল। তাই তার অনুমানটি, বৈধ প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন অকাল্পনিক বাস্তবভিত্তিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণের যোগ্যতাসম্পন্ন অনুমান করা।

পরিশেষে বলা যায়, কেবল বাস্তবসম্মত, অকল্পনীয় এবং প্রমাণের যোগ্য অনুমানই বাস্তব প্রমাণ হয়ে ওঠে।

5 views

Related Questions