1 Answers
উদ্দীপকে সামসু মিয়া এবং মাস্টার সাহেবের বক্তব্যে প্রকল্পের যে বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে তা হলো কাজ চালানো প্রকল্প ও সংকট উত্তরক দৃষ্টান্ত প্রকল্প। নিচে এ বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হলো-
কাজ চালানো প্রকল্পের স্বরূপ সম্পর্কে বলা যায়, কোনো অপরিচিত নতুন ঘটনা ব্যাখ্যা করার জন্য এ সম্পর্কে যথার্থ ধারণা না থাকার ফলে আপাতত উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে যখন অসম্পূর্ণ কোনো আনুমানিক ধারণা সাময়িকভাবে প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তখন সেই আনুমানিক ধারণাকে বলা হয় 'কাজ চালানো প্রকল্প'। বস্তুত অনেক সময় প্রকৃতিতে এমন সব জটিল ও নতুন ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, যেগুলো সম্পর্কে কোনোরূপ প্রকল্প গঠন করা আমাদের পক্ষে কঠিন এবং অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ অনুসন্ধানের কাজ এগিয়ে নিতে এগুলোর জন্য কোনো না কোনো প্রকল্প গঠন করতেই হয়। এরূপ অবস্থায় আপাতত কাজ চালানোর উদ্দেশ্য অনুমানের উপর নির্ভর করে যে প্রকল্প গঠন করা হয়, তাকে কাজ চালানো প্রকল্প বলে। যেমনটি উদ্দীপকে দেখা যায়, সামসু মিয়ার পুকুরে মাছ মরে যাওয়ার কোনো কারণ না পেয়ে বউয়ের উপর দোষ দেয়া হয়। আর এটাই হলো কাজ চালানো প্রকল্প।
অপরদিকে একটি প্রকল্প প্রমাণিত হওয়ার জন্য একে প্রকৃতির অনন্য হতে হয়। অনেক সময় একটি ঘটনার কারণ হিসেবে একাধিক প্রকল্পকে বৈধতার শর্তপূরণ সাপেক্ষে গ্রহণ করার প্রয়োজন হয়। এমতাবস্থায় যে প্রকল্পটি তার সমকক্ষ অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকল্প অপ্রমাণ করে নিজেকে অনন্য ও একমাত্র ব্যাখ্যাকারীরূপে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম, সেই প্রকল্পটিই প্রমাণিত হয়ে নিয়ম বা মতবাদের পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে। তবে নিজেকে অনন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে প্রকল্পটিকে বিশেষ কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হয়। এরূপ নির্ধারক দৃষ্টান্ত যখন নিরীক্ষণের মাধ্যমে সংগৃহীত হয় তখন তাকে বলে সংকট উত্তরক দৃষ্টান্ত বা চরম দৃষ্টান্ত। যেমন: উদ্দীপকের মাস্টার সাহেব পুকুর পাড়ে বিষের বোতল দেখে ধারণা করেন বিষ প্রয়োগের ফলে মাছ মারা গেছে। আর এ ধারণাটি প্রমাণিত হয়ে বিশেষ কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের সামসু মিয়ার প্রকল্প কাজ চালানো প্রকল্প এবং মাস্টার সাহেবের প্রকল্পে সংকট উত্তরক দৃষ্টান্তের বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে। এ বিষয়গুলোর মূল্যায়নে বলা যায়, উদ্দীপকের দুজনের বক্তব্যে দুটি ভিন্ন ধরনের বিষয় ফুটে উঠেছে।