1 Answers
উদ্দীপকে জনাব আজমল বললেন, কাউকে কথা দিয়ে সেকথা রক্ষা করে চলতে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। এটি একটি ঋণের মতো। যা পালন করা মুমিনের জন্য অপরিহার্য।
আজমল সাহেবের বক্তব্যে ইসলামের ওয়াদা পালনের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। নিচে মানবজীবনে ওয়াদা পালনের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
ওয়াদা পালন আখলাকে হামিদাহর অন্যতম গুণ। মানবজীবনে এর প্রভাব অপরিসীম। ওয়াদা পালন সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে। যে ব্যক্তি ওয়াদা পালন করে তাকে সবাই ভালোবাসে। তার প্রতি সকলের আস্থা ও বিশ্বাস থাকে। সমাজে সে শ্রদ্ধা ও মর্যাদা লাভ করে। ইসলামি জীবন দর্শনে ওয়াদা পালন করা আবশ্যক। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ওয়াদা পূর্ণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন- وَأَوْفُوْا بِالْعَهْدِاِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا
অর্থ : তোমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা কর। নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে। (সূরা বনি ইসরাইল: ৩৪)
প্রতিশ্রুতি ও ওয়াদা পালন করা অত্যাবশ্যক। হাশরের ময়দানে প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে ওয়াদা পালন করে না, আখিরাতে সে শাস্তি ভোগ করবে। ওয়াদা পালন করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সৎ ও নৈতিক গুণাবলির অধিকারী ব্যক্তিগণ সর্বদা ওয়াদা রক্ষা করে থাকেন। যে ব্যক্তি ওয়াদা পালন করে না সে পূর্ণাঙ্গ মুমিন ও দীনদার হতে পারে না। মহানবি (স.) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ওয়াদা পালন করে না, তার দীন নেই।” (মুসনাদে আহমাদ)
সুতরাং কাউকে কোনো কথা দিলে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে, প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করতে হবে। প্রতিজ্ঞা করলে বা চুক্তি সম্পাদন করলে তা পূর্ণ করতে হবে। তাহলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হবেন। দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি-সফলতা লাভ করা যাবে।