1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত শামীমের মত পূর্ণাঙ্গ আরোহকে এবং সাবাবের মত অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে। নিচে তাদের মতের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করা হলো-
তথাকথিত কোনো সামান্য যুক্তিবাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেকটি বিশিষ্ট দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের পর, সামান্য যুক্তিবাক্য স্থাপনের যে পদ্ধতি তাই হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ আরোহ। মধ্যযুগীয় স্কলাস্টিক যুক্তিবিদগণ পূর্ণ গনামূলক আরোহ বা পূর্ণাঙ্গ আরোহের সংজ্ঞায় বলেন, কোনো তথাকথিত সঠিক যুক্তি কাব্যের অন্তর্গত প্রত্যেকটা দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষার পর সেই সার্বিক যুক্তিবাক্য স্থাপনের পদ্ধতিকে পূর্ণাঙ্গ বা পূর্ণ গণনামূলক আরোহ বলা হয়। যেমন: একটি ঝুড়িতে ১০টি কলা আছে তাদের প্রতিটির স্বাদ গ্রহণ করে দেখা গেল যে, প্রতিটি কলাই মিষ্টি। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যে, 'ঝুড়ির সব কলাই মিষ্টি।'
অপ্রকৃত আরোহ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ আরোহে 'আরোহমূলক লম্ফ' উপস্থিত থাকে না বলে এতে কোনো অনুমানের অবকাশ নেই। আবার, কার্যকারণ সম্পর্কের উপর নির্ভর না করে শুধুমাত্র অবাধ অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার যে প্রক্রিয়া তাই অবৈজ্ঞানিক আরোহ। যেমন : বেশকিছু 'কাক' পর্যবেক্ষণ করে বলা হলো 'সব কাক হয় কালো'। এক্ষেত্রে একটি মাত্র কালো ব্যতীত অন্য কোনো রঙের কাক পাওয়া গেলেই সিদ্ধান্ত ভ্রান্ত হয়ে যায়। তাই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয় বরং সম্ভাবনামূলক। আর এই সম্ভাবনার মাত্রা শূন্য থেকে শতভাগ পর্যন্ত হতে পারে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, যেহেতু পূর্ণাঙ্গ আরোহে কোনো আরোহমূলক লম্ফ নেই এবং প্রত্যেকটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয তাই পূর্ণাঙ্গ আরোহের সিদ্ধান্ত অবৈজ্ঞানিক আরোহের তুলনায় অধিক যৌক্তিক। কেননা, অবৈজ্ঞানিক আরোহে সকল দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করা হয় না, বরং সম্ভাবনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে সিদ্ধান্ত যেকোনো সময় ভ্রান্ত প্রমাণিত হতে পারে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে আরোহমূলক লম্ফ না থাকায় এটি ভ্রান্ত হওয়ার অবকাশ থাকে না।