1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব কৌশিক দাশের নির্দেশমতো তার ছাত্র 'দ্বিকোটিক বিভাগ' অনুসরণ করে প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করেছে। নিচে তা নিরূপণ করা হলো-

যৌক্তিক বিভাগে কোনো একটি নীতি বা সূত্রের ভিত্তিতে একটি  উচ্চতর জাতি বা শ্রেণিকে তার অন্তর্গত নিম্নতর উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়, যা একটি জটিল প্রক্রিয়া। কারণ এ ক্ষেত্রে এমন কিছু নিয়ম পালন করতে হয়, যেগুলোর লঙ্ঘনে বিভিন্ন ধরনের ভ্রান্ত বিভাগের উদ্ভব ঘটে। আর এ জন্যই যুক্তিবিদগণ 'দ্বিকোটিক বিভাগ' নামে বিভাগকরণের একটি সহজ পন্থা আবিষ্কার করেছেন, যা সম্পূর্ণ রূপগত এবং যাকে বোঝার জন্য কোনোরূপ বাস্তব জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না। সর্বোপরি এ প্রক্রিয়ায় বিভাগের ভ্রান্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কাই থাকে না। বস্তুত যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়মাবলির যথার্থতা বিচারের জন্য বিভিন্ন উপজাতি সম্পর্কে আমাদের বাস্তব জ্ঞান থাকার প্রয়োজন রয়েছে। অর্থাৎ রূপগত যুক্তিপদ্ধতির অনুসারী হয়েও যৌক্তিক বিভাগকে বস্তুগত যুক্তিপদ্ধতির বাস্তব অবস্থা সম্পর্কিত জ্ঞানের অধিকারী হতে হয়। এদিক থেকে যৌক্তিক বিভাগ আংশিক রূপগত ও আংশিক বস্তুগত প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এরূপ ক্ষেত্রে কতিপয় যুক্তিবিদ বিভাগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ রূপানুসারী করার উদ্দেশ্যে দ্বিকোটিক বিভাগ নামে একটি পৃথক বিভাগ প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, 'দ্বিকোটিক' শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে dichotomy, যা দুটি গ্রিক শব্দ dicha এবং temno থেকে উদ্ভূত। dicha অর্থ 'দুভাগে ভাগ' (into two) এবং temno অর্থ 'ভাগ করা' (to cut)। সুতরাং ইংরেজিতে dichotomy শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে cutting into two parts আর বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায়, কোনো কিছুকে 'দুভাগে ভাগ করা'। অর্থাৎ দ্বিকোটিক বিভাগে একটি জাতি বা শ্রেণিকে এমন দুটি বিরুদ্ধ উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়, যাদের একটি সদর্থক পদবিশিষ্ট এবং অপরটি নঞর্থক পদবিশিষ্ট।

উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, উদ্দীপকের ছাত্র 'দ্বিকোটিক বিভাগ' অনুসরণ করে প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করেছেন।

4 views

Related Questions