1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকের কথা অনুযায়ী শব্দগুলোতে একক ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রে সংজ্ঞা প্রয়োগযোগ্য নয়, স্বকীয় নামবাচক পদকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না ও বিশিষ্ট গুণবাচক পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না ইত্যাদি সীমাবদ্ধতা প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো-
একক ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রে সংজ্ঞা প্রয়োগযোগ্য নয়; একক ব্যক্তি বা বস্তুর অসংখ্য গুণ থাকে, যার সবগুলোকে সংজ্ঞায়। উল্লেখ করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া একক ব্যক্তি বা বস্তুর অসংখ্য গুণ থাকলেও তার নিজস্ব এমন কোনো গুণের উল্লেখ করা যায় না, যাকে বিভেদক লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। বস্তুত বিভেদক লক্ষণের বিষয়টি কেবল শ্রেণিবাচক পদের ক্ষেত্রেই প্রয়োগযোগ্য। সে ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র কোনো বিভেদক লক্ষণ না থাকার কারণে নিয়মানুসারে একক ব্যক্তি বা বস্তুকে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব হয় না। যেমন: 'রাজশাহী' হচ্ছে একক একটি শহরের নাম, যার মধ্যে এমন কোনো গুণ নেই যা দ্বারা রাজশাহীকে সংজ্ঞায়িত করা যায়। এজন্য একক হিসেবে রাজশাহীর সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব হয় না।
স্বকীয় নামবাচক পদকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না; নামবাচক পদ হচ্ছে একটি অজাত্যর্থক পদ এবং এগুলো অর্থহীন চিহ্নমাত্র। আর অজাত্যর্থক পদ হিসেবে এরূপ পদের মধ্যে ব্যকুর্থ থাকলেও জাত্যর্থ থাকে না। আর জাত্যর্থ না থাকার কারণে নিয়মানুযায়ী এরূপ পদের সংজ্ঞাদানও সম্ভব হয় না; যেমন: 'করিম'। এটি একটি নামবাচক পদ; আর এ নামটি থেকে এটি কোন জাতির অন্তর্ভুক্ত তা বোঝা যায় না বিধায় এর বিভেদক লক্ষণ নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। আর এ কারণেই এ জাতীয় পদের সংজ্ঞা দেওয়াও সম্ভম্ব হয় না।
বিশিষ্ট গুণবাচক পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না, বিশিষ্ট গুণবাচক পদের অর্থ অত্যন্ত সহজ-সরল। অর্থাৎ এ জাতীয় পদের অর্থ সহজেই সবার বোধগম্য হয় বিধায় এগুলোর ক্ষেত্রে সংজ্ঞাদানের কোনো প্রয়োজন হয় না; যেমন: 'মায়া-মমতা' হচ্ছে একটি বিশিষ্ট গুণবাচক পদ; এটি এমন একটি শব্দ, যা উচ্চারণ করলেই এর অর্থ ও ভাব আমরা সহজে বুঝতে পারি। আর এ কারণেই এ জাতীয় পদ সংজ্ঞার দাবি রাখে না।