1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত যৌক্তিক সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. পরতম জাতির সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। পরতম জাতি হচ্ছে সর্বোচ্চ জাতি, যা অন্য কোনো জাতির উপজাতি নয়। যেমন: 'দ্রব্য' হচ্ছে পরতম জাতি, এজন্য একে সংজ্ঞায়িত করা যায় না।
২. একক ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রে সংজ্ঞা প্রয়োগযোগ্য নয়। একক ব্যক্তি বা বস্তুর অসংখ্য গুণ থাকে। যার সবগুলোকে সংজ্ঞায় উল্লেখ করা সম্ভব হয় না। যেমন : 'ঢাকা' হচ্ছে একটি শহরের নাম, যার মধ্যে এমন কোনো গুণ নেই যা দ্বারা ঢাকাকে সংজ্ঞায়িত করা যায়।
৩. স্বকীয় নামবাচক পদকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। নামবাচক পদ হচ্ছে একটি অজাত্যর্থক পদ এবং এগুলো অর্থহীন চিহ্নমাত্র।.
৪. বিশিষ্ট গুণবাচক পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। যেমন: 'সততা' হচ্ছে একটি বিশিষ্ট গুণবাচক পদ। এটি এমন একটি শব্দ, যা উচ্চারণ করলেই এর অর্থ ও ভাব আমরা সহজে বুঝতে পারি। আর এ কারণেই এ জাতীয় পদ সংজ্ঞার দাবি রাখে না।
৫. মনের মৌলিক গুণাবলিকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। যেমন : সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ইত্যাদি হচ্ছে এ জাতীয় সংজ্ঞায়নাতীত পদ।
৬. বিশ্বসত্তার অপরিহার্য ধারণাগুলোকে সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। মেযন: ঈশ্বর, আত্মা, দেশ, কাল ইত্যাদি হচ্ছে বিশ্বসত্তার অপরিহার্য ধারণা। আর এসব ধারণা এতটাই মৌলিক যে এগুলো কোনো কিছু দ্বারাই সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব হয় না।
৭. পরম ও মৌলিক নিয়মের সংজ্ঞাদান সম্ভব নয়। যেমন : সংজ্ঞার অতীত এসব পরম, স্বতঃসিদ্ধ ও মৌলিক নিয়ম হচ্ছে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি, কার্যকারণ নিয়ম ইত্যাদি। উপরে উল্লিখিত পদগুলোর ক্ষেত্রে সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়, একারণে এদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না।