1 Answers

উদ্দীপকের ক্ষেত্রগুলো ছাড়া সংজ্ঞার আরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কথাটির পক্ষে নিচে যুক্তি দেওয়া হলো-

মনের মৌলিক গুণাবলিকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। মনের মৌলিক গুণ হিসেবে মানসিক অনুভূতিগুলো বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। যেগুলোর একটির সাথে অন্যটির কোনোরূপ সাদৃশ্যই নেই। এ জন্য এই মানসিক গুণাবলি বা অনুভূতিগুলোকে কোনো শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা যায় না বিধায় এ জাতীয় পদের সংজ্ঞা দেওয়াও সম্ভম্ব হয় না। আর সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ইত্যাদি হচ্ছে এ জাতীয় সংজ্ঞায়নাতীত পদ। বিশ্বসত্তার অপরিহার্য ধারণাগুলোর সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। বস্তুত বিশ্বসত্তার অপরিহার্য ধারণাগুলো অতীন্দ্রিয় ও অনন্যসাধারণ এবং এগুলোর প্রতিটি এতটাই স্বতন্ত্র যে, এগুলোকে কোনো জাতির অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। আর এ কারণে এগুলোর সংজ্ঞা দেওয়াও সম্ভব হয় না। যেমন: ঈশ্বর, আত্মা, দেশ, কাল ইত্যাদি হচ্ছে বিশ্বসত্তার অপরিহার্য ধারণা। আর এসব ধারণা এতটাই মৌলিক যে এগুলো কোনো কিছু দ্বারাই সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব হয় না।

পরম ও মৌলিক নিয়মের সংজ্ঞাদান সম্ভম্ব নয়। এ নিয়মগুলো সর্বোচ্চ ও স্বতঃসিদ্ধ, যেগুলোকে অন্য কোনো ব্যাপকতর নিয়মের অধীন করা যায়। অর্থাৎ এসব নিয়ম দ্বারা বিভিন্ন বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা গেলেও আসন্নতম জাতি না থাকার কারণে এই মৌলিক নিয়মসমূহকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। যেমন: সংজ্ঞার অতীত এসব পরম, স্বতঃসিদ্ধ ও মৌলিক নিয়ম হচ্ছে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি, কার্যকারণ নিয়ম ইত্যাদি। উপর্যুক্ত সীমাবদ্ধতাগুলো উদ্দীপকে নেই, উদ্দীপকে সংজ্ঞার শুধু তিনটি সীমাবদ্ধতার আলোচনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতা অনেক। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ক্ষেত্রগুলো ছাড়া সংজ্ঞার আরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

5 views

Related Questions