1 Answers

দৃশ্যকল্প-১-এ বাবার কথাটি হলো সমুদ্র নয় নদী। এ কথায় যে ধরনের দোষ ঘটেছে তা হলো নঞর্থক বা নেতিবাচক সংজ্ঞা। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-

যৌক্তিক সংজ্ঞার একটি অন্যতম ভ্রান্ত রূপ হচ্ছে 'নঞর্থক বা নেতিবাচক সংজ্ঞা', যার উদ্ভদ্ধ ঘটে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের লঙ্ঘন থেকে। এ নিয়মের মূলকথা হচ্ছে, কোনো পদের সংজ্ঞা সদর্থকভাবে দেওয়া সম্ভব হলে কখনোই নঞর্থভাবে দেওয়া সমীচীন নয়। সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সংজ্ঞেয় পদটি দ্বারা কী বোঝায় বা পদটিতে কী কী গুণ আছে তা উল্লেখ করা। কিন্তু নঞর্থক ভাষা ব্যবহার করলে সংজ্ঞার এ উদ্দেশ্যটি ব্যাহত হয়। কারণ এরূপ ক্ষেত্রে সংজ্ঞেয় পদটি কী নয় বা এতে কী গুণ নেই, কেবল তা-ই ব্যক্ত হয়। যেমন: 'আলো নয়, অন্ধকার', -এ সংজ্ঞায় 'আলো' কী তা ব্যক্ত হয়নি, বরং 'আলো' কী নয়, কেবল তা-ই ব্যক্ত হয়েছে। এতে আলোর স্বরূপ সুস্পষ্ট না হয়ে অস্পষ্টই রয়ে গেছে। তবে এমন কিছু পদ আছে, যেগুলোকে সদর্থক ভাষা দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায় না। এরূপ ক্ষেত্রে নজ্ঞর্থক ভাষার ব্যবহার অনুচিত নয়, যেমন: 'অনার্থ বলতে যার পিতা-মাতা নেই তাকেই বোঝায়।' এখানে 'অনাথ' পদটির সংজ্ঞায় নঞর্থক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ পদটিকে প্রকাশের মতো কোনো সদর্থক ভাষা নেই। কিন্তু সদর্থক শব্দ থাকা সত্ত্বেও কোনো পদকে নঞর্থক শব্দ দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হলে সেখানেই উদ্ভদ্ধ ঘটে 'নঞর্থক বা নেতিবাচক সংজ্ঞা' নামক ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞার। সুতরাং সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ভ্রান্তি এড়াতে হলে যথাযোগ্য স্থানে নঞর্থক ভাষার পরিবর্তে কেবল সদর্থক ভাষাই ব্যবহার করতে হবে।

উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১-এ বাবার কথায় নঞর্থক বা নেতিবাচক ধরনের দোষ ঘটেছে।

4 views

Related Questions