1 Answers
বর্তমান প্রেক্ষাপটে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানে স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব গ্রহণ করা যৌক্তিযুক্ত। যে নেতৃত্বে নেতা সকল ক্ষমতা নিজের কাছে কেন্দ্রীভূত করে রাখেন এবং নিজের ইচ্ছামতো এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তাকে স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে। নেতা যা ভালো মনে করেন তাই করে থাকেন। তিনি কাজের জন্য কারও নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন না। এক্ষেত্রে নেতা কর্মীদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে তাদের থেকে কাজ আদায়ের চেষ্টা করেন। অধীনস্থরা এরূপ নেতৃত্বকে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করতে পারে না। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এরূপ নেতৃত্ব সাময়িকভাবে কার্যকর প্রতীয়মান হলেও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের নেতৃত্ব নিরুৎসাহিত করা হয়। শরিফ স্টাইল লি. এর একটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১,০০০ কর্মী কাজ করে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মনে করেন কর্তৃপক্ষের অধিক সহানুভূতিশীলতার সুবাদে কর্মীরা অলস হয়ে পড়েছে এবং কর্মীরা কাজ এড়িয়ে চলায় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। তাই তিনি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কর্মীদের থেকে কাজ আদায় করতে চান এবং কোনো পরিকল্পনা প্রণয়নে কর্মীদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি যে ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ যুক্তিসঙ্গত। সুতরাং প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিচারে স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার যুক্তিকতা রয়েছে।