1 Answers
উদ্দীপকের চিত্র 'ক' তে এস আর আই ও চিত্র 'খ' তে গতানুগতিক বা প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানের চাষ দেখানো হয়েছে। নিম্নে পদ্ধতি দু'টির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
গতানুগতিক বা প্রচলিত পদ্ধতিতে জমিতে বীজের পরিমাণ বেশি লাগে এবং প্রতি গোছায় ৩-৪টি করে চারা রোপণ করা হয়। অপরদিকে এস আর আই পদ্ধতিতে বীজের পরিমাণ (৭৫- ৮০%) কম লাগে এবং প্রতি গোছায় ১টি করে চারা রোপণ করা হয়। গতানুগতিক পদ্ধতিতে চারার রোপণ দূরত্ব কম হয় বলে গাছের বৃদ্ধি তেমন ভালো হয় না। এস আর আই পদ্ধতিতে বর্গাকারে রোপণের কারণে চারা প্রচুর সূর্যালোক ও মূলের বৃদ্ধির জন্য প্রচুর জায়গা পায়। গতানুগতিক পদ্ধতিতে পানি সেচ বেশি লাগে। কিন্তু এস আর আই পদ্ধতিতে সেচ কম লাগে বলে ৩০- ৩৫% পানি সাশ্রয় হয়। গতানুগতিক পদ্ধতির তুলনায় এস আর আই পদ্ধতিতে ২৫-৩০% সার কম লাগে। প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানের অঙ্গজ বৃদ্ধি পর্যায়ে জমিতে যেমন দাঁড়ানো পানি থাকে সেখানে এস আর আই এর ক্ষেত্রে জমি শুধু ভেজা থাকলেই চলে। ফলে মাটিতে বায়ু চলাচলের সুযোগ থাকায় এস আর আই পদ্ধতিতে মিথেন গ্যাস কম নির্গত হয়। গতানুগতিক পদ্ধতিতে প্রতি গোছায় কুশির সংখ্যা কম হয়। অপরদিকে এস আর আই পদ্ধতিতে প্রতি গোছায় কুশির সংখ্যা বেশি হয়। পাশাপাশি এস আর আই পদ্ধতিতে প্রচলিত ধানের চেয়ে ২০ দিন আগে ফসল কাটা যায় বলে কৃষক ধানের বেশি বাজারমূল্য পায়। এস আর আই পদ্ধতিতে বোরো ও আমন মৌসুমে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ধানের ফলন ২০% এর অধিক বৃদ্ধি পায়।
উপরের আলোচনা হতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও সঠিক মাত্রায় সেচ প্রয়োগের মাধ্যমে ধানের অধিক ফলন পেতে এস আর আই এবং গতানুগতিক পদ্ধতি সম্পর্কে তুলনামূলক ধারণা পাওয়া যায়।