1 Answers
উদ্দীপকে ব্যবহৃত বিষয়টি প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত। কারণ লাল আলোর সংকেত, সবুজ আলোর সংকেত একেকটি প্রতীক। লাল আলো দ্বারা গাড়ি থামার নির্দেশ করে, সবুজ আলো দ্বারা গাড়ি চলার নির্দেশ করে। এগুলো হলো প্রতীক। কোনো বস্তুকে নির্দেশ করার জন্য, বোঝার বা ব্যক্ত করার জন্য যে লিখিত বা কথিত চিহ্ন ব্যবহার করা হয় তাই হলো প্রতীক। যুক্তিবিদ্যায় প্রতীক গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। এই জন্য প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা ও সাবেকী যুক্তিবিদ্যার মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে এগুলো বর্ণনা করা হলো-
i. যুক্তিবিদ্যার যুক্তি ও আকারিক দিককে যখন প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তখন সেটি প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা এবং গতানুগতিক, সনাতনী ও এরিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যা হলো সাবেকি যুক্তিবিদ্যা।
ii. সাবেকি যুক্তিবিদ্যার ইতিহাস সুদীর্ঘ, কিন্তু প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার ইতিহাস সংক্ষিপ্ত।
iii. সাবেকি যুক্তিবিদ্যায় প্রতীক ছিল নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে, কিন্তু প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা সীমাবদ্ধ নয়।
iv. সাবেকী যুক্তিবিদ্যায় সচরাচর আমরা যে ভাষায় মনোভাব প্রকাশ করি সে ভাষা ব্যবহার করা হয় কিন্তু প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা প্রতীকের ভাষার উপর নির্ভরশীল।
V. সাবেকি যুক্তিবিদ্যায় গাণিতিক ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত হয় না, কিন্তু প্রতীকী যুক্তিবিদ্যায় গাণিতিক ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত হয়।
vi. সাবেকি যুক্তিবিদ্যা হলো যুক্তিবিদ্যার মৌলিক ও প্রাথমিক ভিত্তি। অন্যদিকে, প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা হলো সাবেকি যুক্তিবিদ্যায় পরিণত ও বিকশিত দিক।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, সাবেকি যুক্তিবিদ্যা হলো মৌলিক এবং প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা সাবেকি যুক্তিবিদ্যার প্রতীকী রূপ।