1 Answers

হ্যাঁ, উদ্দীপকে ব্যক্ত শব্দগুলো অনুসরণে পদ ও শব্দের পার্থক্য নিরূপণ  করা যায়। কেননা এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ বর্ণ বা ধ্বনি হচ্ছে শব্দ। আর  যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয়রূপে ব্যবহৃত শব্দ বা শব্দসমষ্টি হচ্ছে পদ। যেমন-মা, নু, ষ বর্ণগুলো মিলে গঠিত হয় 'মানুষ' শব্দ। আবার সব কবি  হয় মানুষ। এখানে 'মানুষ' ও 'কবি' যথাক্রমে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ। সব  পদই শব্দ, কিন্তু সব শব্দই পদ নয়। যেমন: 'ফুল হয় সুন্দর' এখানে 'ফুল' ও 'সুন্দর' যথাক্রমে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ, কিন্তু হয় হলো একটি শব্দ। শব্দ যত বড়ই হোক না কেন তা শুধু একটি শব্দ। কিন্তু পদ সব ক্ষেত্রেই একটি মাত্র শব্দ নয়। যেমন- আমার লাল কলমটি হচ্ছে উদ্দেশ্য এবং অনেক দিনের পুরাতন হচ্ছে বিধেয়। একটি যুক্তিবাক্যের কেবল দুটি পদ থাকে, কিন্তু শব্দ থাকতে পারে অনেকগুলো। যেমন- করিম সাহেবের ছেলে হয় ঢাকা বিশ্ববদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্র। এখানে পদ দুটি হলেও শব্দ আছে নয়টি। একটি শব্দের একাধিক অর্থ থাকলেও যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত একটি পদ একই সময়ে একটি অর্থই প্রকাশ করে। শব্দ দ্বারা আমরা আমাদের সব ধরনের মনের ভাব প্রকাশ করে থাকি। কিন্তু পদ দ্বারা আমরা কেবল আমাদের চিন্তাকেই প্রকাশ করতে পারি। যুক্তিবিদ্যার তিন প্রকার শব্দের মধ্যে শুধু পদযোগ্য শব্দগুলো পদ এবং সহ পদযোগ্য শব্দগুলো আংশিকভাবে পদ, কিন্তু পদ নিরপেক্ষ শব্দগুলো পদ নয়। অথচ ব্যাকরণগত দিক থেকে বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ কোনো না কোনো পদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

4 views

Related Questions