1 Answers

যুক্তিবাক্যের প্রান্তদ্বয়যুক্ত উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে পদ বলে। পদের প্রকারভেদের মধ্যে অন্যতম হলো বস্তুবাচক (Concrete term) এবং অন্যটি গুণবাচক পদ (Abstract term)। মূলত বস্তুবাচক এবং গুণবাচক পদের বিশ্লেষণের মাধ্যমে পদের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়। এই বিষয়টি উদ্দীপকের আতিকের ভাষ্যে প্রকাশ পেয়েছে।

যে পদ কোনো বিষয় বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে 'বস্তুবাচক পদ' বলে। যেমন- 'মানুষ', 'ঘর', 'বই', 'খাতা' ইত্যাদি। বস্তুবাচক পদকে 'মূর্ত পদ'ও বলা হয়। অন্যদিকে, যে পদ কেবল গুণটিকেই বোঝায়, তাকে 'গুণবাচক পদ' বলে। যেমন- 'কার্পণ্য', 'মনুষ্যত্ব', 'সত্যবাদিতা', 'উদারতা' ইত্যাদি। গুণবাচক পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তিকে বোঝায় না, কেবল গুণকে বোঝায়। তবে বিষয় বা বস্তুকে বিচ্ছিন্ন কোনো গুণের অস্তিত্ব বাস্তবে অসম্ভব বলে এই পদকে 'বিমূর্ত পদ'ও বলা হয়।

যুক্তিবিদ মিল তাঁর 'A System of Logic'-গ্রন্থে বলেন, "বস্তুবাচক পদ হলো একটি নাম, যা একটি বস্তুর প্রতি ব্যবহৃত হয়।" বস্তুবাচক পদ কখনো বিশিষ্ট হয়, যেমন- সূর্য, হিমালয়, মেঘনা। অন্যদিকে আবার কখনো সামান্য হয়, যেমন- নক্ষত্র, পর্বত, নদী। অন্যদিকে "গুণবাচক পদ হলো একটি নাম, যা একটি বস্তুর প্রতি ব্যবহৃত হয়।” গুণবাচক পদ বিশিষ্ট ও সামান্য উভয়ই হতে পারে। আবার যখন কোনো গুণবাচক পদ দ্বারা একটি মাত্র গুণকে বোঝায়, তখন তাকে 'বিশিষ্ট গুণবাচক' পদ বলে। যেমন- দয়া, সাহস ইত্যাদি। আবার যখন কোনো গুণবাচক পদ দ্বারা এক জাতীয় সবগুলো গুণকে বোঝায়, তখন তাকে 'সামান্য গুণবাচক' পদ বলে। যেমন- পুণ্য, বর্ণ ইত্যাদি।

4 views

Related Questions